বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে গতকাল বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তাতে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া লিটন মিয়া নিজেকে ইরাকে বড় হাসপাতালের চিকিৎসক বলে পরিচয় দিতেন, আর আজাদ একটি এজেন্সির আড়ালে মানব পাচার করছিলেন। দেশে–বিদেশে এই চক্রের ১৫–২০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। মানব পাচারের অভিযোগে লিটন ইরাকে একাধিকবার এবং আজাদও দেশে কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে বের হয়ে আবারও তিনি একই কাজে লিপ্ত হন। মানব পাচারের অভিযোগে তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধে ছয়–সাতটি করে মামলাও রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চক্রটি ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইরাকে নেওয়ার জন্য একেকজনের কাছ থেকে তিন–চার লাখ টাকা নিত। ইরাকে নেওয়ার পর পুরুষদের ‘সেফ হোমে’ আটকে রেখে আরও দু–তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করত, আর নারীদের সেখানে নেওয়ার পর বিক্রি করে দেওয়া হতো।

এ রকম এক ভুক্তভোগী নারী সেখান থেকে পালিয়ে দেশে ফিরেছেন। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে মেডিকেল স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আজাদ রহমানের এজেন্সির মাধ্যমে তিনি বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তখন লিটন মিয়া ইরাক থেকে তাঁকে ফোন করে নিজেকে বড় চিকিৎসক পরিচয় দেন। তাঁকে ইরাকের একটি হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। একপর্যায়ে লিটন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে বিয়ের প্রস্তাব দেন এই নারীকে। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে লিটন দেশে এসে বিয়ে করেন এবং এই নারীকে ইরাকে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, লিটন একজন প্রতারক এবং পাচারের সঙ্গে জড়িত।

এই নারী জানান, তিনি যাওয়ার কিছুদিন পর একটি ‘সেফ হোমে’ গিয়ে প্রায় ৩৫ জন নারীকে দেখেছেন, যাঁদের বিক্রির জন্য আটকে রাখা হয়েছে। প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে এই নারী একপর্যায়ে লিটনের বাসা থেকে পালিয়ে যান। পরে অন্যদের সহায়তায় দেশে ফেরেন।

এই চক্রের মাধ্যমে পাচার হওয়া আরেক নারী জানান, তাঁকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এই চক্র ইরাকে নিয়ে যায়। এরপর এক বাঙালির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তিনি ওই ব্যক্তিকে অনেক অনুনয়–বিনয় করে দেশে ফিরে আসেন। ফিরে এসে র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করেন।

র‌্যাবের মুখপাত্র জানান, লিটন মিয়া দেশে সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। ২০১০ সালে চাকরিচ্যুত হন। ২০১৩ সালে তিনি ইরাকে যান। পরে তিনি আজাদের সহায়তায় ইরাকে মানব পাচারে যুক্ত হন। তিনি মূলত বিভিন্ন হাসপাতালের নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের প্রলোভনে ফেলতেন। লিটন মানব পাচারের অভিযোগে ইরাকে দুবার গ্রেপ্তার হন। এরপর নতুন করে গ্রেপ্তার এড়াতে দেশে ফিরে আসেন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন