দুস্থদের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট (ভিজিডি) কার্ডে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা ভাগ বসিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা কার্ড ভাগাভাগিতে আপত্তি করায় গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুস্থ ব্যক্তিরা জানুয়ারি মাসের চাল পাননি।
ইউপি সূত্র জানায়, ইউনিয়ন ভিজিডি কমিটিতে গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মনোনীত দুই ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম থাকায় চেয়ারম্যানরা বিপাকে পড়েছেন। ইউএনও মনোনীত গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ভিজিডি কার্ড ভাগাভাগি করে নেন। ভাগাভাগিতে রাজি না হওয়ায় ঝিকরা ইউনিয়নের তালিকা অনুমোদনে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়।
মহিলা অধিদপ্তরের উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরে বাগমারায় ১ হাজার ৭২৪টি ভিজিডি কার্ড বরাদ্দ পাওয়া যায়। সেগুলো দুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণের জন্য উপজেলার ১৬ ইউনিয়নে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন কমিটি প্রকৃত দুস্থ ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা কমিটির কাছে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার আটটি ইউপির চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করেন, ইউএনওর মনোনীত গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে যাঁদের নির্বাচিত করা হয়েছে, তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা। বাধ্য হয়ে তাঁদের সঙ্গে কার্ড ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে কার্ড ভাগাভাগি ও ইউএনওর মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের নির্বাচিত করার সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই সব গণ্যমান্য ব্যক্তি নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্ডের আবদার করে তা আদায়ও করে নেন।
পাঁচজন চেয়ারম্যান জানান, তালিকা নিয়ে দর-কষাকষির কারণে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে তালিকা জমা দিতে পারেননি। পরে সমঝোতা ও তাঁদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে তালিকা উপজেলা কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়। চলতি মাসে এ তালিকা অনুমোদন করা হলেও নতুন তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাল পাননি। তাঁদের অভিযোগ, কার্ড ভাগাভাগির কারণে জনপ্রতিনিধিরা অনেক অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্ত করতে পারেননি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা ভিজিডি কমিটির সদস্যসচিব ও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নির্দিষ্ট সময়েই তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে গুদামে চাল না থাকায় নতুন তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো বিতরণ করা যায়নি। ডিও দেওয়া শুরু হয়েছে, অল্প দিনের মধ্যেই বিতরণ করা হবে।
ঝিকরা ইউপির চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান অভিযোগ করেন, কমিটিতে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা নীতিমালা লঙ্ঘন করে কিছু নামের তালিকা জমা দেন, সেগুলো তিনি অন্তর্ভুক্ত করেননি। এ জন্য ইউনিয়নের তালিকা ডিসেম্বরে অনুমোদনের কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে তাঁদের মনোনীত ১৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় গত বুধবার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে ওই কমিটির সদস্য ঝিকরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মানিক ১৮ জনের তালিকা দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, নীতিমালার মধ্যে তালিকা দেওয়া হলেও চেয়ারম্যান প্রথমে তালিকাভুক্ত করেননি। পরে তাঁদের চাপে করেছেন।
চেয়ারম্যানদের মধ্যে কাচারীকোয়ালীপাড়া ইউপির আবদুল গাফ্ফার, শুভডাঙ্গার আবদুল জলিল, সোনাডাঙ্গার মোজাফ্ফর হোসেন জানান, আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা ইউএনওর মনোনীত ব্যক্তি ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কার্ড ভাগাভাগি করে উপজেলা কমিটির কাছে জমা দিয়েছেন তাঁরা। কার্ড ভাগাভাগি হলেও তাঁদের ইউনিয়নে কোনো সমস্যা হয়নি বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
উপজেলা ভিজিডি কমিটির সভাপতি ইউএনও তরিকুল ইসলাম জানান, এখন আর কোনো সমস্যা নেই। ডিও ইস্যু শুরু হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউদ্দিন জানান, কোনো কার্ড ভাগাভাগি করা হয়নি। তাঁদের সম্মান করে কিছু কার্ড দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার দুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন