default-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) হিসেবে গঠনতান্ত্রিক মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ক্যাম্পাসে থাকলে নুরুল হককে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ কর্মী। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন নুরুল। আর প্রক্টর বলেছেন, ছাত্রলীগের ওই কর্মীর ‘সাইকোলজিক্যাল সাপোর্ট’ দরকার হলে তা দেওয়া হবে।

আজ রোববার বেলা আড়াইটার দিকে কয়েকজন নেতা-কর্মী নিয়ে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া ও কলাভবন এলাকায় হাঁটার সময় এই হুমকির শিকার হন নুরুল। এরপর প্রক্টরের কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ জানান তিনি। একপর্যায়ে আদনান আহমেদ ওরফে নাবিল নামের ছাত্রলীগের ওই কর্মী প্রক্টর কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

আদনান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী। গত বছরের ডিসেম্বরে ডাকসু ভবনে নুরুলদের ওপর হামলা ও জুলাইয়ে রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় আদনানের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

প্রক্টরের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে নুরুল হক বলেছেন, ‘ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া ও কলাভবনের সামনে দিয়ে হেঁটে আসার সময় আদনান আমাকে অকথ্য ভাষা গালিগালাজ করে এবং ১১ মার্চের পর (ডাকসু নির্বাচনের বর্ষপূর্তি) ক্যাম্পাসে থাকলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। গালিগালাজ ও হুমকির এক পর্যায়ে সে আমাকে ধাক্কা দেয় এবং আমার সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থী শাকিল মিয়াকে মারধর করে৷ গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনে আদনান আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এই ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোরালো অনুরোধ জানাচ্ছি।’

নুরুল যখন প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযোগ জানাতে যান, এর কিছুক্ষণের মধ্যে আদনানও সেখানে যান। তিনি সেখানে ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আদনান আহমেদ তাঁর কাজের জন্য অনুতপ্ত। ভিপি নুরুল হকও তাঁর প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন। আদনান হয়তো মানসিকভাবে সমস্যায় আছে। তাই তাঁর সাইকোলজিক্যাল সাপোর্ট দরকার হলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তা দেওয়া হবে।’

এই ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কাউকে হুমকি-ধমকি দেওয়া একটি সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক অপরাধ৷ ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণসাপেক্ষে ছাত্রলীগ ব্যবস্থা নেবে৷ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও এ ধরনের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0