ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভনে অবৈধভাবে ভুটান যাওয়ার পথে ২২ দিন আগে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার চার তরুণ। এ তরুণদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছে তাঁদের পরিবার।
আটক তরুণেরা হলেন উপজেলার ডেফলাই গ্রামের সুরুজ আলী (২২), গান্দিগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমান (২৫), শাহ আলম (২৬) ও কান্দুলি সন্ন্যাসীঘাট গ্রামের ফটিক চান (২৩)।
এলাকাবাসী ও আটক ব্যক্তিদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভুটানে ভালো বেতনে পোশাক কারখানায় চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে চার তরুণের কাছ থেকে গান্দিগাঁও গ্রামের আবুল হাশেম ৪০ হাজার করে টাকা নেন। ২৩ জানুয়ারি ওই চারজনকে ভারত হয়ে ভুটানে যাওয়ার জন্য সাতক্ষীরা সীমান্তপথে অনুপ্রবেশ করান। সেখানে তাঁরা ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। ২৫ জানুয়ারি ভারতের কারাগার থেকে সুরুজ আলী একজন পুলিশের সহায়তায় মুঠোফোনে তাঁর পরিবারকে বিষয়টি জানান। এর পর থেকে আবুল হাশেম পলাতক রয়েছেন।
এদিকে অবৈধভাবে ভারতে আটক হওয়ার বিষয়টি ভয়ে স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি—কাউকেই জানায়নি তাঁদের পরিবার। অসহায় এসব পরিবার তাদের সন্তানদের ফিরে পেতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করে। হাবিবুরের মা হামিদা খাতুন বলেন, ‘পুলা আটকের খবর হুনুনের পর থাইকা ঘুমাইবার পাই না। খাইবার পাই না। আমরা গরিব মানুষ। অহন কী করমু, কিছুই বুঝতাছি না। পুলারে ফিরা পাইতে আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।’ স্থানীয় কৃষক হায়দার আলী বলেন, ‘সবার পরিবার অত্যন্ত গরিব। সবাই সুদের ওপর টেহা নিয়া হাশেমেইও দিছে। অহন পুলাগেযও ছাড়াইবার লাইগা যে দৌড়ঝাঁপ করব, হেই সামর্থ্যডাও এই সব পরিবারের নাই।’
সম্প্রতি গান্দিগাঁও গ্রামে আবুল হাশেমের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর স্ত্রী গা ঢাকা দিয়েছেন। পরে হাশেমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি।’ চাকরির কথা বলে কাউকে ভুটান পাঠানো হয়নি বলে জানান তিনি। ঝিনাইগাতী থানার ওসি ফসিহুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনে হাশেমকে ধরার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সে আগেই গা ঢাকা দিয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন