ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাধ্যমিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব রটিয়ে পরিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীতে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁর প্রকৃত নাম আসাদুজ্জামান নূর সাকিব। ফেসবুকে তিনি রিয়াজুল ইসলাম লিটন ছদ্মনাম ব্যবহার করেন।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় নগরের দক্ষিণখানের মোল্লারটেকে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ভুয়া প্রশ্নপত্রের কপিসহ একটি ল্যাপটপ, বাংলালায়নের একটি ওয়াইম্যাক্স মডেম, একটি পেনড্রাইভ ও দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ মনিটরিং সেলের তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল মোল্লারটেক এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাকিবকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিন্টো রোডের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম সাকিবের গ্রেপ্তারের কথা জানান। সাকিব প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি ফেসবুকে রিয়াজুল ইসলাম লিটন ছদ্মনাম ব্যবহার করে আসছেন। বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আছে তাঁর কাছে এবং টাকার বিনিময়ে তা পাওয়া যাবে বলে তিনি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রস্তাব দেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ফেসবুকের মেসেঞ্জারের ইনবক্সে তাঁর কাছে প্রশ্নপত্র চান। তিনি আগ্রহীদের তাঁর মুঠোফোনের বিকাশ নম্বর দিলে তাঁরা বিকাশের মাধ্যমে তাঁকে টাকা পাঠিয়েছেন। টাকা পাওয়ার পর তিনি ইনবক্সে প্রশ্নপত্র দেন।
মনিরুল ইসলাম জানান, সাকিব ও তাঁর সহযোগীরা ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে প্রশ্নপত্র নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে আসছেন। সাকিব দাবি করেন, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তিনি এসব প্রশ্নপত্র পেয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ভুয়া প্রশ্নপত্রের মূল হোতা ও অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন