উত্তরবঙ্গের আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন, মারপিট ও উচ্ছেদসহ সব ধরনের সহিংসতার পেছনে ভূমিদখলই প্রধান কারণ বলে মনে করে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও কাপেং ফাউন্ডেশন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ওই দুটি সংগঠন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের ভূমিসমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৮ ও ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি কোনো আলোচনাও করেনি। এ কারণে ভূমিকেন্দ্রিক সমস্যাগুলো দিন দিন আরও জটিল হয়ে পড়ছে। আদিবাসীদের ওপর সহিংসতাও বাড়ছে।

লিখিত বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরাঞ্চলে আদিবাসীদের ওপর বেশ কিছু নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরবঙ্গের আদিবাসীসহ সারা দেশের আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো একের পর এক ঘটছে। এ কারণে অনেক আদিবাসী দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছে। ইতিমধ্যে অনেক আদিবাসী দেশত্যাগ করেছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী অঞ্চলে আদিবাসীরা দিন দিন দেশান্তরিত হওয়ার পথে ঝুঁকছে। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, গত বছর প্রায় ৩০০ পরিবার দেশান্তরিত হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান ও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর চরম বিচারহীনতার সংস্কৃতি আদিবাসীদের আরও প্রান্তিক ও নিঃস্ব করে দিয়েছে। রাষ্ট্রের বিমাতাসুলভ আচরণ, নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়া, জাতিগত বৈষম্যের শিকার হওয়াসহ নানা কারণে আদিবাসীরা বাংলাদেশে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ছয় দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশের আদিবাসীদের ওপর সহিংসতা বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আদিবাসীদের ওপর সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা প্রভৃতি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন