নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভোলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ ধরেন জেলেরা। ছবিটি ভোলার দৌলতখান পৌরসভায় মেঘনা থেকে মঙ্গলবার বিকেলে তোলা
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভোলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ ধরেন জেলেরা। ছবিটি ভোলার দৌলতখান পৌরসভায় মেঘনা থেকে মঙ্গলবার বিকেলে তোলা প্রথম আলো

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরছিলেন ভোলার মেঘনা নদীর জেলেরা। এ সময় ধাওয়া করে মা ইলিশ রক্ষায় নিয়োজিত অভিযানকারী দল। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জেলেরা অভিযান পরিচালনাকারীদের লক্ষ্য করে হামলা চালান। এতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আহত সবাই ভালো আছেন।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, আহত পাঁচজন হলেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু আবদুল্লাহ খান, ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, পুলিশ সদস্য মো. রাছেল, ও মৎস্য বিভাগের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত দুজন মাঝি মো. বাহার মাঝি ও জাকির হোসেন মাঝি।

জেলা মৎস্য কার্যালয়, প্রশাসন, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ভোলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও সাগর মোহনায় ২২ দিন (১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর) ইলিশ প্রজনন মৌসুম চলছে। এ সময় নদীতে জাল ফেলা, মাছ শিকার, বহন, ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ। তারপরও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্যাপক হারে মুন্সিগঞ্জ থেকে শুরু করে সাগর মোহনা পর্যন্ত জেলেরা দিন-রাত মাছ ধরেছেন।

বিজ্ঞাপন

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসন যৌথভাবে প্রায় ৩১৩টি অভিযান চালিয়েছে। আটক হয়েছেন ৩২৪ জন। ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দকৃত নৌকা নিলামে বিক্রি করে আদায় হয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। ৫৭ হাজার মিটার জাল এবং ১ হাজার ৭৭৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

default-image

মৎস্য বিভাগ জানায়, মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে ভোলা সদর উপজেলার মৎস্য বিভাগ পুলিশ নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মেঘনা নদীতে অভিযান চালায়। রাজাপুর ইউনিয়নের বঙ্গেরচরে মেঘনা এলাকায় কয়েকটি ট্রলারকে মাছ ধরতে দেখে ধাওয়া করা হয়। জেলেদের ট্রলার বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জে মেঘনা সীমানায় চলে যায়। জেলেরা তখন এলোপাতাড়ি অভিযানের ট্রলারকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একসময় জেলেরা পালিয়ে যান। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

মৎস্য বিভাগ জানায়, এ নিয়ে ভোলায় দুই দফায় অভিযানকারীদের ওপর জেলেদের হামলার ঘটনা ঘটল। ১ নভেম্বর ভোলার তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালাতে গিয়ে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও ট্রলারের মাঝি হামলার শিকার হন। তখন একজন আহত হয়েছিলেন।

মন্তব্য পড়ুন 0