অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আতিকুর রহমান বলেন, রাতেই পরিবারের সব সদস্যকে বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের সারা দিনের চাল-চলন বিষয়ে নানা কথা শোনা হয়। পরিবারের সব সদস্যই স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। রাত ১২টার দিকে ওই এলাকার এক মাইক্রোবাস চালক আকতার হোসেন পুলিশকে জানান যে বাড়ির এক কিশোরীকে তিনি বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মাঠের পাশের পরিত্যক্ত শৌচাগার থেকে বের হতে দেখেছেন। এ তথ্য পাওয়ার পর কিশোরী স্বজনকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সে শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করে।
পুলিশের দাবি, ওই কিশোরী তাদের বলেছেন যে শিশুটির মায়ের সঙ্গে তার ও তার মায়ের পারিবারিক কলহ চলছে। সানজিদার মাকে শিক্ষা দিতেই এই হত্যার পরিকল্পনা করে সে। ঘটনার দিন বিকেলে চানাচুর কিনে খাওয়ার জন্য সানজিদাকে নিয়ে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত ভূমি কার্যালয়ে যায়। সেখানে দুজন মিলে চানাচুর খায়। এরপর শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করে কিশোরী বাড়িতে ফিরে যায়।

সানজিদার বাবা সোহাগ হোসেন বলেন, সানজিদা দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন আশপাশে খোঁজা শুরু করেন। একপর্যায়ে মেয়ের সন্ধান চেয়ে বিকেলে হরিনারায়ণপুর বাজারে মাইকিং করেন। এরপরও হদিস মেলেনি। সন্ধ্যার পর এলাকার কয়েকজন কাচারি মাঠের পাশের পরিত্যক্ত শৌচাগারে শিশুটির লাশ পড়ে থাকার খবর দেয়। সানজিদার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওই কিশোরী স্বজনও ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আতিকুর রহমান বলেন, থানায় হত্যা মামলা হবে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন