মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে ইয়াবার বড় চালান চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের ফাঁকি দিতে গভীর রাতে মাছ ধরার ট্রলারে লুকিয়ে এসব ইয়াবা আনা হচ্ছে। সম্প্রতি কয়েকটি বড় চালান ধরা পড়ার পর চোরাকারবারিদের এ কৌশল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কোস্টগার্ড ও পুলিশ সূত্র এ কথা জানিয়েছে।

কোস্টগার্ড ও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে সাগরপথে ইয়াবার বড় চালান ধরা পড়তে থাকে। গত আট মাসে ১০টি চালানে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। সবগুলো চালানই আনা হয় সমুদ্রপথে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকায়। গত বুধবার দিবাগত রাতে উদ্ধার করা হয় ১৪ লাখ ইয়াবা বড়ি। তাদের ধারণা, এসব চালান চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর সড়ক বা রেলপথে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল পাচারকারীদের। তবে এতগুলো চালান ধরা পড়ার পরও মূল হোতাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

নৌবাহিনীর চোরাচালান প্রতিরোধ দলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমান্ডার এস এম আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থলপথে ঝুঁকি বেশি মনে করে বড় চালানগুলো সাগরপথে আনছে চোরাকারবারিরা। মাছ ধরার ট্রলারের গোপন কুঠুরিতে লুকিয়ে রাতের বেলায় ইয়াবা পাচারের কৌশল নিয়েছে তারা। এ কারণে এখন আমরা নজরদারিও বাড়িয়েছি। এর ফলেই সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় চালান ধরা পড়েছে।’

সূত্র জানায়, কর্ণফুলী নদীর ফিশারিঘাট এলাকা থেকে সাগরে মাছ শিকার করছে সহস্রাধিক ট্রলার। এ ছাড়া ছোট আকারের মাছ ধরার নৌকাও আসা-যাওয়া করছে এই পথে। এসব মাছ ধরার ট্রলার সাগর থেকে বন্দর জলসীমা হয়ে কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন ঘাটে ভিড়ছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার ট্রলার আসা-যাওয়ার কারণে সবগুলো যাচাই করা সম্ভব হয় না। এই সীমাবদ্ধতা কাজে লাগাচ্ছে চোরাকারবারিরা।

গত বুধবার দিবাগত রাতে ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান উদ্ধার করা হয় এফবি রাজীব নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে। ওই ট্রলারের মাছ রাখার জায়গায় লুকিয়ে ইয়াবা আনা হয়।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থলপথে নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় পাচারকারীরা রুট পরিবর্তন করে সাগরপথ বেছে নিয়েছে। এ জন্য সাগরপথে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাগরপথে বড় চালান ধরা পড়লেও বাহকেরা ধরা না পড়ায় মূল হোতাদের সহজে ধরা যাচ্ছে না।’

সাগরপথে মাছ ধরার ট্রলারে আনা ইয়াবার বড় চালান প্রথম ধরা পড়ে গত বছরের ২০ জুন। নগরের ফিশারিঘাটে একটি দোকান থেকে ৩০ হাজার ইয়াবা বড়িসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। আটক দুজন জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, এফবি সাগর নামে একটি মাছ ধরার ট্রলারে এসব ইয়াবা বড়ি এনে দোকানে রাখা হয়। তবে কারা এগুলো এনেছে, এ সম্পর্কে তারা জানে না।

এ ঘটনার পর সাগরপথে পাচারের সময় গত আট মাসে নৌবাহিনীর সদস্যরা ১৯ লাখ ১০ হাজার এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা ৪ লাখ ও পুলিশ ৩০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে।

নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের উদ্ধার করা ইয়াবার চালান হস্তান্তর করা হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে। এরপর অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা থানায় অভিযোগ বা মামলা করেন। জানতে চাইলে একাধিক মামলার বাদী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের পরিদর্শক তপন কান্তি শর্মা বলেন, মিয়ানমার থেকে সাগরপথে আনা ইয়াবার বড় চালান ধরা পড়লেও বাহকেরা ধরা পড়ছে না। ফলে শুধু আটক ট্রলারের ওপর ভিত্তি করে মামলা করতেও দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। কারণ আটক ট্রলারের মালিক কে, প্রথমে তা শনাক্ত করতে হয়। এরপর ট্রলারের মাঝিমাল্লা কারা ছিলেন, তাঁদের শনাক্ত করতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় মূল হোতাদের সহজে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন