মাত্র ২০০ টাকার জন্য সাহেদ আলী নামের এক রিকশাচালক তাঁর স্ত্রী ঝরনা বেগমকে (৩৫) খুন করেন। গ্রেপ্তার হওয়া সাহেদ গতকাল শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেছেন। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মিরপুর থানার পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার কল্যাণপুরের ১১ নম্বর রোডের একটি কক্ষের ভাড়া বাসায় সাহেদ আলী তাঁর দুই শিশুপুত্রের সামনে স্ত্রী ঝরনাকে বঁটি দিয়ে জবাই করেন। পরে পুলিশ রক্তমাখা বঁটিসহ সাহেদকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে মিরপুর থানার পুলিশ ঝরনার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ঝরনার ছেলে জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে তাঁর বাবাকে আসামি করে মিরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাসিরউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সকালে পুলিশ সাহেদকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য পাঠায়। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাহেদ আলী আদালতকে বলেন, তিনি রিকশা চালান। পাঁচ সন্তান নিয়ে কল্যাণপুরে ১১ নম্বর সড়কের পাশে এক কক্ষের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। তাঁর স্ত্রী ঝরনা গৃহকর্মীর কাজ করতেন। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের কাঁঠাল গ্রামে যাওয়ার জন্য দু-তিন ধরে তাঁর স্ত্রীর কাছে টাকা চেয়ে আসছিলেন। কিন্তু তিনি টাকা দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের খাবারের সময় এই টাকা চাওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়। খাওয়ার পর তাঁর তিন ছেলেমেয়ে বাসার বাইরে যায়। এ সময় তিনি আবারও স্ত্রীর কাছে ২০০ টাকা চান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঝরনা তাঁর পায়ে বঁটি দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় তিনি ঝরনার কাছ থেকে বঁটি কেড়ে নিয়ে তাঁর গলায় বঁটি চালিয়ে দেন।
এসআই নাসিরউদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় ঘরে থাকা দুই শিশুর চিৎকার ও ঝরনার গোঙানির শব্দে আশপাশের লোকজন বাসাটি ঘিরে ফেলে। কিন্তু ভয়ে সাহেদ দরজা খুলছিলেন না। পরে মিরপুর থানায় জানালে পুলিশ এসে সাহেদকে বের করে আটক করে।
সাহেদের বড় ছেলে জহিরুল ইসলাম বলেন, তাঁর বাবা এক দিন রিকশা চালিয়ে পাঁচ দিন ঘরে বসে থাকতেন। তাঁর মা বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে টাকা আয় করতেন। সেই টাকায় ভাগ বসাতে চাইতেন তাঁর বাবা। বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের বাড়িতে যাওয়ার জন্য মায়ের কাছে ২০০ টাকা চান তাঁর বাবা। বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য লুকিয়ে রাখা এক হাজার টাকা দেখে সেই টাকা দাবি করেন তাঁর বাবা। এ নিয়ে তাঁদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়।
জহিরুল বলেন, তাঁর ছোট দুই ভাই মাকে হত্যার দৃশ্য দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তারা অস্বাভাবিক আচরণ করছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন