র‍্যাবের গাড়িতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা এই প্রথম কি না এবং ঠিক কী ঘটেছে, এমন প্রশ্নের জবাব দেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন। কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি বলেন, ‘গতকাল রাতে র‍্যাবের একটি মাইক্রোবাস সাভার থেকে মানিকগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল।

মাইক্রোবাসটি লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালানো হয়। যতটুকু আমি জেনেছি, গাড়িকে থামানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এলাকাটি ছিনতাই ও ডাকাতিপ্রবণ এলাকা।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, মাইক্রোবাসের পেছনে র‍্যাবের একটি টহল পিকআপ ছিল। ওই রাস্তায় সাধারণত গাড়ি থামানো হয় না। অতর্কিতে সন্ত্রাসীরা র‍্যাবের গাড়িতে গুলি চালায়। এতে গাড়ির উইন্ড শিল্ড ও কাচ ভেঙে পড়ে। পরে গাড়ির পেছনে র‍্যাবের ‘ব্যাকআপ টিম’–এর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময় হয়।

এ ঘটনার পর র‍্যাবের ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অপর একটি দল অস্ত্রের খোঁজ শুরু করে। সেখানে বেশ কিছু দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। র‍্যাব তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পরিচয় শনাক্তের ব্যবস্থা রয়েছে র‍্যাবের। হাসপাতালেই আঙুলের ছাপ মিলিয়ে জানা যায় ওই ব্যক্তির নাম কাওসার। তিনি একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। র‍্যাব আগে থেকে তাঁর নাম জানত না।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর র‍্যাব ও র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন রাজস্ব ও পররাষ্ট্র দপ্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর কুমিল্লার সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাজু ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। তবে গতকালের ঘটনাকে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলেনি র‍্যাব। বলেছে ‘গুলিবিনিময়’ ও ‘গোলাগুলি’।

খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের বলেন, ‘র‍্যাবের ওপর যে আঘাত,তা নতুন নয়। কুমিল্লাতেও দেখেছেন, গুলি করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে, মাদকবিরোধী অভিযান হয়েছে, সেখানে হামলা হয়েছে। এতে আমাদের ২৯ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন। এক হাজারের অধিক সদস্য আহত হয়েছেন, যেটা কয়েক দিন আগে কুমিল্লাতেও হয়েছে।’

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন