বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (মিরপুর) বিভাগের উপকমিশনার মানস কুমার পোদ্দার প্রথম আলোকে বলেন, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপহরণকারীরা নুরুল আমিনের মুক্তিপণ হিসেবে স্বজনদের কাছে এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন। নুরুল আমিনের চাচা মো. শফিউদ্দিন আহমেদ একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। টাকাটা তাঁর কাছেই চাওয়া হয়েছিল।

শফিউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর আশঙ্কা অপহরণের পরপরই নুরুল আমিনকে হয়তো হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা খুন করেই ক্ষান্ত হননি, মুক্তিপণও আদায় করতে চেয়েছিলেন।

নুরুল আমিন ছোটবেলা থেকেই তাঁর চাচা শফিউদ্দিনের কাছে থাকতেন। নুরুল আমিনের যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা ছিল বলেও জানান তিনি।

শফিউদ্দিন আরও বলেন, নুরুল আমিন রাত ১০টার মধ্যেই ঘরে ফেরেন। ২ জানুয়ারি বিকেলে বাসা থেকে বের হন তিনি। বড় ভাইয়ের শ্বশুরবাড়িতে নুরুল আমিনের মা আসায় তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় বড় ভাইয়ের মোটরসাইকেলে চড়ে আসছিলেন।

রাত ১১টা পর্যন্ত নুরুল আমিন বাসায় না ফেরায় তাঁরা খোঁজ শুরু করেন। ওই সময় তাঁর মুঠোফোনটিও বন্ধ ছিল। দিবাগত রাত সাড়ে তিনটা নাগাদ তাঁরা দারুস সালাম থানায় যান। থানা চত্বরেই মোটরসাইকেলটি দেখতে পেয়ে তাঁরা পুলিশের কাছে জানতে চান চালককে দেখেছে কি না। পুলিশ জানায়, তারা বেড়িবাঁধের ওখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলটি দেখে থানায় নিয়ে আসে।

পরদিন থানা ও ডিবি পুলিশ তদন্ত শুরু করে। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে নুরুল আমিনের মুঠোফোন থেকে একটা ফোন আসে। অপরপ্রান্ত থেকে শফিউদ্দিনের কাছে এক কোটি টাকা চাওয়া হয়।

শফিউদ্দিন বলেন, ‘‍আমাকে বলল, আমরা যে টাকা চেয়েছি এটা কাউকে বলবেন না। পুলিশকে জানানোর দরকার নেই। আমি শুধু ছেলেটার সঙ্গে কথা বলতে চাইলাম। বলল, সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।’ এরপর আরও কয়েকবার মুক্তিপণ চেয়ে ফোন করে অপহরণকারীরা।

নুরুল আমিনের বাড়ি নরসিংদীতে। অপহরণের দিন বাড়ি ফেরার পথে তাঁর একটি ফোন আসায় তিনি কাউকে না বলে কোথাও গিয়েছিলেন। ওই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধু–বান্ধবরা পরিবারকে জানিয়েছে, ফোনটা আসা মাত্রই তাড়াহুড়ো করে নুরুল আমিন চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তাঁর মুঠোফোন বন্ধ হয়ে যায়।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন