টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের খলিলুর রহমান কলেজের ছাত্রাবাসে গত বৃহস্পতিবার রাতে বহিরাগতদের হামলায় ১০ ছাত্র আহত হয়েছেন। এ সময় বহিরাগতরা ছাত্রাবাসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান।
প্রত্যক্ষদর্শী, কলেজ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পানি পান করার সময় মগ নিয়ে কিছুদিন আগে ওই কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বাঁশতৈল ইউনিয়নের মো. শাহীনের সঙ্গে দ্বিতীয় বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী জামান মিয়ার বাগ্বিতণ্ডা হয়। ঘটনাটি কলেজের শিক্ষকেরা মীমাংসা করে দেন। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জামানকে বাঁশতৈল বাজারে শাহীন ও তাঁর সহযোগীরা মারধর করেন। ঘটনাটি জামান ছাত্রাবাসের সুপারিনটেনডেন্ট প্রভাষক ইদ্রিস আলীকে জানালে তিনি বিষয়টি পুনরায় মীমাংসার উদ্যোগ নেন। গতকাল শুক্রবার সকালে তা মীমাংসা করার কথা ছিল।
এদিকে মারধরের বিষয়টি শিক্ষকদের জানানোর খবর পেয়ে শাহীন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শাহীন তাঁর তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একই কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম, হৃদয় হোসেনসহ ১৫-২০ জন যুবককে নিয়ে এসে ছাত্রাবাসে হামলা চালান। তাঁরা ছাত্রাবাসের ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে কয়েকটি কক্ষের দরজা-জানালা ও আসবাব ভাঙচুর করেন। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে তাঁরা তাঁদের লাঠিপেটা করেন। এতে জামান ছাড়াও নুরুল ইসলাম, আকাশ, শরিফ, সোলায়মানসহ অন্তত ১০ জন ছাত্র আহত হন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা পাশের ছাত্রীনিবাসেও হামলার চেষ্টা চালান। এ সময় ভীত ছাত্রীরা ছোটাছুটি করতে গিয়ে তিনজন আহত হন। আহত শিক্ষার্থীদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ইদ্রিস আলী জানান, তিনি ছাত্রাবাসের ফটকে বহিরাগতদের বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা বাধা না মেনে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালান। এ সময় বহিরাগতরা ছাত্রী হোস্টেলের ভেতরে থাকা তাঁর কক্ষেও ভাঙচুর চালান। এ ছাড়া হামলাকারীরা ১৫টি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যান।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফাইজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি বাঁশতৈল ফাঁড়ি ও থানার পুলিশকে জানিয়েছেন।
বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন জানান, এ ব্যাপারে কলেজের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন