মুঠোফোনে প্রেম, বিয়ের পরদিনই ঝুলন্ত লাশ

বিজ্ঞাপন
default-image

একজন কলেজছাত্রী, অপরজন কাঠমিস্ত্রি। মুঠোফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের সম্পর্ক। এভাবে দেড় বছর কেটে গেলেও ছেলেটি সম্পর্কে আর কিছুই জানা হয়নি। বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে তাঁকে বিয়ে করেন কলেজছাত্রী। তারপরই মেয়েটি জানতে পারেন আসল ঘটনা। ছেলেটির স্ত্রী-সন্তান আছে। বিয়ের এক দিন না যেতেই লাশ হলেন কলেজছাত্রী।

ওই কলেজছাত্রীর নাম সামসুন্নাহার আক্তার পিংকি (২০)। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের হতদরিদ্র আবদুস সামাদের মেয়ে। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বড্ডাপাড়া গ্রাম থেকে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে সরাইল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করা হয়। পুলিশ সামসুন্নাহারের স্বামী মুক্তার হাসানকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুক্তার হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের নসর মিয়ার ছেলে। বছর দুয়েক আগে তিনি হবিগঞ্জের বুইদ্দারবাজারে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। সেখানে থাকা অবস্থায় মুঠোফোনে পরিচয় হয় স্থানীয় বনগাঁও গ্রামের সামসুন্নাহারের সঙ্গে। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

চার বছর আগেই মুক্তার হাসান বিয়ে করেন। ঘরে তাঁর আড়াই বছরের একটি ছেলে রয়েছে। এসবের কিছুই মুক্তার হাসান জানাননি সামসুন্নাহারকে। এ অবস্থায় সম্পর্কের টানে গত শনিবার ভোরে বাড়ি ছাড়েন সামসুন্নাহার আক্তার। পরিবারকে না জানিয়ে ওই দিনই তিনি মুক্তার হাসানকে বিয়ে করেন। পরে সামসুন্নাহারকে নিয়ে নিজ বাড়ির পরিবর্তে সরাইলের বড্ডাপাড়া গ্রামে এক আত্মীয়র বাড়িতে ওঠেন মুক্তার।

খবর পেয়ে রোববার সকালে ওই বাড়িতে হাজির হন মুক্তার হাসানের স্ত্রী-সন্তান। তখন সবকিছু জানার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সামসুন্নাহার। দুপুরে মুক্তার হাসান ঘর থেকে বের হন। এর কিছুক্ষণ পর বাড়ির লোকজন ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সামসুন্নাহারকে দেখতে পান। তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সামসুন্নাহারের চাচা আবদুর নূর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগের বিয়ের ঘটনা গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে মুক্তার আমার ভাতিজিকে ঘর থেকে বের করেন। তাঁর প্ররোচনায় সামসুন্নাহার আত্মহত্যা করে। আমরা মুক্তারের বিচার চাই।’

চাচা আবদুর নূর বাদী হয়ে সোমবার দুপুরে সরাইল থানায় মামলা করেন। এতে মুক্তারের পাশাপাশি তাঁর বড় ভাই আক্তার হোসেন (২৬) ও তাঁর অপর এক ভাই নজরুল ইসলামের স্ত্রী মুন্নি বেগমের (২৪) নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও তিন–চারজনকে আসামি করা হয়।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এম এম নাজমুল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সামসুন্নাহারের লাশ রোববার বিকেলে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের পর সোমবার ভোরে পরিবারের লোকজন লাশটি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। এর আগে রোববার রাতে মুক্তারকে আটক করে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন