default-image

ফরিদপুর সদরের ডিক্রির চর ইউনিয়নের ভূইয়াডাঙ্গি এলাকার মানুষ অবশেষে পিটিয়ে হত্যা করল সেই মেছো বাঘটিকে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান বলেন, প্রায় ২০ দিন ধরে মেছো বাঘটি এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছিল। এটির আক্রমণে বাছুর, ভেড়া, ছাগলসহ প্রায় ২০টি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। লোকজনকেও ধাওয়া দিত মেছো বাঘটি। তাই এলাকাবাসী ভয়ে সন্ত্রস্ত ছিল। মসজিদ থেকে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছিল। পথে-ঘাটে লোকজন ও স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গিয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে বন বিভাগ বা প্রশাসনের কোনো উদ্যোগই চোখে পড়েনি।
ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকায় উপদ্রব শুরু হওয়ার পর মেছো বাঘের অবস্থান শনাক্ত করে জীবন্ত ধরার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। অবস্থান শনাক্ত হলে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের পাঠানো যেত।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল নয়টার দিকে কয়েকজন জেলে ভূইয়াডাঙ্গি এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ে মফিজ মণ্ডলের কাশবনে মেছো বাঘটি দেখতে পান। পরে তাঁরা চিৎকার দিয়ে গ্রামের লোকজনকে জড়ো করেন। প্রায় ২০০ গ্রামবাসী লাঠি নিয়ে কাশবনের নদীর দিক বাদ রেখে তিন দিক দিয়ে ঘিরে ফেলেন মেছো বাঘটি। এরপর তাড়া করা হয়। এক নাগাড়ে দেড় ঘণ্টা তাড়া খেয়ে মেছো বাঘটি নদীতে নেমে যায়। এরপর জেলেরা নৌকা নিয়ে গিয়ে বইঠা ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে প্রাণীটিকে হত্যা করেন।
ডিক্রির চর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জামিল মণ্ডল বলেন, এলাকাবাসী মৃত প্রাণীটিকে পানি থেকে তুলে পাশের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের নতুন মোহন মিয়ার হাটে নিয়ে রশিতে ঝুলিয়ে রাখেন। এটির রং সাদা ও কালো। লেজ বাদে এর দৈর্ঘ্য সাড়ে তিন ফুট। প্রস্থে দুই ফুট। লেজটির দৈর্ঘ্য এক ফুটের বেশি।
ফরিদপুর সদরের বন বিভাগের ফরেস্টার আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, এটি একটি মেছো বাঘ। গাছে চড়তে পারে বলে অনেকে একে গেছো বাঘও বলে থাকে।
১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোয় ‘চরে অচেনা হিংস্র জন্তু, জনমনে আতঙ্ক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন