default-image

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আপার কাগাবলা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকার টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। ট্রাকে করে টিলার মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আশপাশের এলাকায়। টিলা কাটা রোধে বিভিন্ন সময় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা বন্ধ হচ্ছে না।
সরেজমিনে গত ২৩ জানুয়ারি দেখা গেছে, আপার কাগাবলা ইউনিয়নের আথানগিরি গ্রামের পাকা সড়ক থেকে বাম দিকে কাঁচা রাস্তা ধরে একটু সামনে গেলেই গাড়ির চাকার চিহ্ন। সেই চিহ্ন ধরে এগিয়ে গেলে আবদুল কাদিরের বাড়ি। বাড়ির এক পাশের টিলা থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে।
বাড়ির লোকজন জানান, শিশুরা টিলার কাছে খেলাধুলা করে। শিশুদের ওপর মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কায় টিলা থেকে কয়েক ট্রাক মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে।
তবে ২২ জানুয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট এসেছিলেন। তারপর থেকে তাঁরা আর মাটি কাটছেন না।
আবদুল কাদির পরে মুঠোফোনে বলেন, ‘টিলা কেটে সমান করতে চেয়েছিলাম। তবে এখন আর তা করছি না।’
বিন্নি গ্রামের মো. হাসেম ২৩ জানুয়ারি বলেন, ইউনিয়নের বুরুতলা, আপার কাগাবলা, আথানগিরি এবং পাশের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মীর্জাপুর ইউনিয়নের ধোবারহাটে টিলা কাটা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি জানান, বেশ কয়েক বছর ধরেই এলাকায় টিলা কাটা চলছে। টিলার মাটি কেটে রাতগাঁও, আগিউন, কুশালপুর, লামা কাগাবলাসহ পাশের বিভিন্ন গ্রামের ভিটা তৈরি ও নিচু জায়গা ভরাটের জন্য নেওয়া হচ্ছে। এক ট্রাক মাটি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। গত বছর আথানগিরিতে টিলা কাটার সময় মাটি কাটার যন্ত্র (এক্সকাভেটর) ও তিনটি ট্রাক জব্দ করে স্থানীয় প্রশাসন।
এর পরও সুযোগ পেলে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। গতকাল রোববার আথানগিরি এলাকার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তাঁদের এলাকা থেকে না হলেও আশপাশের টিলা থেকে এখনো ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, টিলা কাটা রোধে মূলত পরিবেশ অধিদপ্তরেরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার কথা। পাহাড়-টিলায় ভরা জেলা মৌলভীবাজার। অথচ এখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো কার্যালয় না থাকায়, পরিবেশ সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না।
সিলেটের পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন কোনো টিলাই কাটার বিধান নেই।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী টিলা কাটা হলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। জনস্বার্থে একান্তই যদি কোনো টিলা কাটতে হয়, তবে পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
গত ২২ জানুয়ারি আথানগিরিতে টিলা কাটার বিরুদ্ধে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে ইসরাত অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি গত ২৪ জানুয়ারি বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা গিয়ে দেখি একটি বাড়ির টিলা কেটে মাটি নেওয়া হয়েছে।
মাটি সংগ্রহের ট্রাক বা টিলা কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাইনি। আমরা তাঁদের টিলা কাটতে নিষেধ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, এলাকায় আরও কিছু টিলা থেকে মাটি কাটার আলামত দেখা গেছে। স্থানীয় তহশিলদারকে টিলা কাটা রোধে সবাইকে সতর্ক করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন