default-image

দাম্পত্য কলহের জের ধরে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় মিম আক্তার নামের এক বছরের মেয়েকে নদীতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এক বাবা। গতকাল সোমবার বিকেলে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাবা এই তথ্য জানিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ওই বাবার নাম আল-আমিন (৩০)। তাঁর বাড়ি উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে।

পুলিশ, স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে একই উপজেলার চকবাড়ি ওয়াইজনগর গ্রামের হোসনে আরাকে বিয়ে করেন আল-আমিন। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন কারণে কলহ চলে আসছিল। ৩ নভেম্বর হোসনে আরাকে মারধর করে তাঁর স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। এ সময় এক বছরের মেয়েকে নিজের কাছে রেখে দেন আল-আমিন। ৬ নভেম্বর বিকেলে স্থানীয় বার্তা এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড় থেকে শিশু মিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শিশুটির লাশের ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, ৩ নভেম্বর মেয়েকে নদীর পানিতে ফেলে হত্যা করেন আল-আমিন। ৬ নভেম্বর নদীর পাড় থেকে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই শিশুটির মা হোসনে আরা বাদী হয়ে স্বামী আল-আমিন, শ্বশুর আবদুল হালিম, শাশুড়ি নাছিমা বেগমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন।

আদালতের নির্দেশে গত রোববার স্থানীয় একটি কবরস্থান থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা উপস্থিত ছিলেন। পরে ডিএনএ সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিঙ্গাইর থানাধীন শান্তিপুর তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদুজ্জামান ভূইয়া বলেন, ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে যান। গত রোববার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উপজেলার সিরাজপুর এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সোমবার আদালতে তিনি দাম্পত্য কলহের জের ধরে মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

মন্তব্য পড়ুন 0