ভাগ্য ভালো থাকলে জুটে যেতে পারে দামি মোটরসাইকেল বা আকর্ষণীয় সামগ্রী। ১০-২০ টাকা দিয়ে র্যা ফল ড্রর টিকিট কিনলেই ভাগ্য বদলের এই সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে লোভ দেখানো হচ্ছে। তাই র্যা ফল ড্রর টিকিট কিনছেন অনেকে। কেউ কেউ একাধিক টিকিটও কিনছেন। এভাবে যত টিকিট বিক্রি হচ্ছে, তত পকেট ভারী হচ্ছে র্যা ফল ড্র আয়োজকের। কিন্তু পকেট ফাঁকা হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষের।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে আনন্দ মেলায় চলছে এই র্যা ফল ড্র। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই এ র্যা ফল ড্র আয়োজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মেলা আয়োজন করা হয়েছে।
মেলায় প্রতি দিন মধ্যরাত পর্যন্ত ড্র অনুষ্ঠান চলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আয়োজক কমিটির একজন সদস্য জানান, র্যা ফল ড্র আয়োজন করে প্রতি দিন তাঁদের ৪-৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। কিন্তু পুরস্কার বাবদ ব্যয় হচ্ছে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা।
মেলা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কালমেঘ এলাকায় গত ১৭ জানুয়ারি থেকে আনন্দ মেলা উদ্বোধন করা হয়। তবে পরে তা গোয়ালগারী এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলা চলবে। এখানে যাত্রা, হাউজি, জাদু প্রদর্শনী ও র্যা ফল ড্র চলছে। র্যা ফল ড্র চালাচ্ছেন সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের কামাল হোসেন। তিনি র্যা ফল ড্রর বিপরীতে প্রতি দিন মেলা কমিটির তহবিলে টাকা দেন। প্রতি দিনই প্রথম পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি ১০০ সিসি মোটরসাইকেল অথবা মোটা অঙ্কের নগদ টাকা। এ ছাড়া রয়েছে ৪০টি আকর্ষণীয় পুরস্কার।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রতি দিন পিকআপ ও ভ্যানে করে বিক্রি করা হচ্ছে র্যা ফল ড্রর টিকিট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, প্রতি দিন ১৫ থেকে ২০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়। গত শুক্রবার ভ্যানে টিকিট বিক্রি করার সময় মো. শাহীন নামে একজন বিক্রেতা জানান, তিনি ওই দিন বিকেল পর্যন্ত ১৫ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি করেছেন।
লাহিড়ী এলাকার ভ্যান চালক আইয়ুব আলী জানান, তিনি প্রতি দিন পাঁচটি করে টিকিট কিনছেন। তবে এখনো কোনো পুরস্কার পাননি। বড়বাড়ি গ্রামের মনোরঞ্জন রায় বলেন, প্রতি শুক্রবার প্রথম পুরস্কারে দামি মোটরসাইকেল দেওয়া হয়। আর সে সময় টিকিটের দাম রাখা হয় ২০ টাকা। মোটরসাইকেলের লোভে সাধারণ মানুষ একসঙ্গে একাধিক টিকিট কেনেন।
র্যা ফেল ড্র আয়োজক কামাল হোসেন বলেন, ‘র্যা ফল ড্র চললেও পুরস্কার দিয়ে খুব একটা টিকছে (লাভ থাকছে) না। আর অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি মেলা কমিটির দেখার কথা।’
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি আবদুস সোবহান বলেন, মেলার অনুমতি নেওয়া হলেও লটারি ও হাউজির অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সগির হোসেন বলেন, মেলার অনুমতি থাকলেও লটারির অনুমতি দেওয়া হয়নি। মেলার নামে লটারি চললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন