গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন মাহমুদুল হক, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, আবদুল আজিজ ও নুরুল হক। র‍্যাব বলছে, আসামিরা ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

চান্দগাঁও ক্যাম্পে র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তুলে টাকার বিনিময়ে কৃষকদের পানি দিয়ে ব্যবসা করছে গ্রেপ্তার আসামি মাহফুজুল হকের পরিবার। তাদের বিরুদ্ধে কৃষকদের নানা অভিযোগ রয়েছে। তিন মাস আগে সৌদি আরব থেকে এলাকায় আসেন মোরশেদ। তিনি কৃষকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করতেন। এলাকায় প্রতিবাদী যুবক হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল। তবে কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, মোরশেদ সেচ প্রকল্পটি তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে মাহফুজুলের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

ব্রিফিংয়ে র‍্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে একটি সিমেন্টের দোকানে বসে মাহফুজুল মোরশেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন বিকেলে মোরশেদ বাসা থেকে বের হয়ে বাজারে গেলে পরিকল্পনামতো মাহফুজুলরা তাঁকে কিরিচ ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করেননি আসামিরা। তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তাঁরা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। সেচ প্রকল্প নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। গ্রেপ্তার আসামিদের কক্সবাজার থানায় হস্তান্তর করা হবে।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের কোম্পানি কমান্ডার মাহফুজুর রহমান আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, আসামিরা টেকনাফ থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছেন, গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যার কথা স্বীকার করেন।

আসামিদের বরাত দিয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, মোরশেদ আসামিদের ইফতারের পর তাঁকে হত্যা করার জন্য আকুতি জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু তাঁরা সে সুযোগ দেননি।
৭ এপ্রিল কক্সবাজারের পিএমখালীর বাসিন্দা মোরশেদ ইফতারি কেনার জন্য স্থানীয় চেরাংঘর স্টেশনে বের হলে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে রাত আটটার দিকে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় মামলা হয়।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন