default-image

ছিনতাইয়ের জন্য যাত্রীবেশে ভ্যানে ওঠে রাজশাহীর চারঘাটের ভ্যানচালক জালাল উদ্দিনকে (৬০) হত্যা করা হয় বলে দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এই দুই আসামি হলেন উপজেলার আস্করপুর গ্রামের রোস্তম আলীর ছেলে মিনারুল ইসলাম (৩০) ও একই গ্রামের মকছেদ আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩২)। গত বুধবার মিনারুল ও পরের দিন বৃহস্পতিবার মাসুদ রানা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জালালের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ এর রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য কাজ করে যাচ্ছিল। তদন্তের একপর্যায়ে মিনারুলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। তাই গত মঙ্গলবার রাতে প্রথমে মিনারুলকে তাঁর নিজ গ্রাম থেকে আটক করা হয়। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাসুদ রানাকে গত বুধবার চারঘাটের সারদা বাজার থেকে আটক করা হয়। তাঁরা দুজনই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার মিনারুল ইসলাম ও মাসুদ রানাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আসামিরা আদালতে বলেছেন, মূলত জালাল উদ্দিনের ভ্যান ছিনতাই করার জন্যই তাঁকে হত্যা করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাঁরা চারঘাটের চৌরাস্তার মোড় থেকে ঝিকরা যাওয়ার কথা বলে জালাল উদ্দিনের ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ভাড়া করেন। পথে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে নির্জন জায়গায় পৌঁছে তাঁরা ভ্যানচালক জালাল উদ্দিনকে হত্যা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে মিনারুল ও মাসুদ রানা ছাড়া আর কারও সম্পৃক্ততা নেই। দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্যও উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।

জালাল উদ্দিন চারঘাটের মেরামতপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর রাস্তার পাশে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে গলাকাটা অবস্থায় পান। এরপর তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে আবদুল মানিক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চারঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মন্তব্য পড়ুন 0