টানা অবরোধ ও মাঝেমধ্যে হরতালের কারণে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা থেকে যাত্রীরা চট্টগ্রাম ও ফেনীসহ বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছেন অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে। এ কারণে রোগীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে উন্নত চিকিৎসার জন্য যেতে ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন না। এতে সংকটাপন্ন রোগীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
এ ছাড়া দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া। অতিরিক্ত টাকা দিয়েও অ্যাম্বুলেন্স মিলছে না।
ব্যবসায়ী হাবিব উল্যা জানান, গত বুধবার তাঁর মামাতো ভাই অটোরিকশার চাপায় আহত হন। এতে তাঁর বাঁ পা ভেঙে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। কিন্তু ওই দিন কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে দ্বিগুণ ভাড়ায় একটি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়।
বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া দেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়পুর উপজেলায় একটি সরকারি ও সাতটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স আছে। স্বাভাবিক সময়ে ঢাকায় যেতে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া চার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। অবরোধের কারণে অ্যাম্বুলেন্সের সংকট থাকায় ভাড়া উঠেছে ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত।
গত মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়কের বাসাবাড়ি এলাকা দিয়ে কয়েকজন যাত্রী অ্যাম্বুলেন্সে করে ফেনী যাচ্ছিলেন। এ সময় জানতে চাইলে অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী নাজমুল আলম বলেন, ‘ফেনী থেকে উপজেলার কেরোয়া গ্রামে পরিবারের লোকজন নিয়ে বেড়াতে আসি। কিন্তু অবরোধ-হরতালের কারণে ফেনী যেতে পারিনি। এখন ৫ হাজার টাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ফেনী রওনা দিয়েছি।’
কয়েকজন চিকিৎসক জানান, মাঝেমধ্যে অনেক রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন থাকে। তাঁদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা নেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পান না। বেশি টাকা দিয়েও অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স মিলছে না।
রায়পুর উপজেলা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তুহিন চৌধুরী বলেন, ‘রোগী ছাড়া যাত্রীদের কাছে অনেক মালিক অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে দ্বিগুণের বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। অ্যাম্বুলেন্স রোগীদের জন্যই রাখার নিয়ম। রোগী ছাড়া যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য ভাড়া দেওয়া ঠিক না। বিষয়টি আমরা সমিতির পরর্বতী সভায় আলোচনা করব।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন