জানাজার আগ মুহূর্তে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে হাজির পুলিশ। এ সময় আপত্তি জানালেন উপস্থিত লোকজন। কিন্তু কোনো কাজ হলো না। পুলিশ মো. রুবেল (৪০) নামের এক ব্যক্তির লাশ নিয়ে গেল ময়নাতদন্তের জন্য।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুরের স্টেশন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় রুবেলের ভাবি রুকিয়া আক্তারকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। দেখাশোনা করার কেউ না থাকায় তাঁর দুই শিশু সন্তান মীম (৫) ও তামিমকেও (৩) তাঁর সঙ্গে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুরের স্টেশন রোডের আলেয়া ভবনের বাসিন্দা সৈয়দ একরামুল কবিরের ছেলে মো. রুবেল কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। গতকাল সকালে তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। পরিবারের লোকজন তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা রুবেলের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। রুবেলের লাশ দাফনের জন্য পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হয়। বাদ জুমা তাঁর জানাজা হওয়ার কথা ছিল। গোসল শেষে লাশ খাটিয়ায় তোলা হয়। এ সময় রুবেলের বোন সৈয়দা ফেরদৌস আরা বেগম পলি ঢাকা থেকে তাঁর স্বামীসহ সেখানে হাজির হন। সৈয়দা ফেরদৌস আরা এ সময় তাঁর ছোট ভাই রুবেলকে বাক্প্রতিবন্ধী বড় ভাই সৈয়দ ইকবাল হোসেনের স্ত্রী রুকিয়া আক্তার হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে তিনি রুকিয়াকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এ ঘটনার পর রুবেলের বাবা সৈয়দ একরামুল কবিরও তাঁর ছেলেকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে সুধারাম থানার পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ জানান এবং হত্যার অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সকাল সাতটার দিকে মৃত অবস্থায় রুবেলকে হাসপাতালে আনা হয়। মৃত ঘোষণার পর পরিবারের লোকজন লাশ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে দুপুরে আবার লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে আনা হয়। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে কী কারণে রুবেলের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় রুবেলের বাবা সৈয়দ একরামুল কবির পুত্রবধূ রুকিয়াকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, রুবেলকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে—তাঁর বাবা এ অভিযোগ করার পর লাশটি উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, রুবেলের ভাবি রুকিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেখাশোনা করার কেউ না থাকায় তাঁর দুই শিশু সন্তানকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে মায়ের সঙ্গে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
ওসি জানান, ময়নাতদন্ত শেষে রুবেলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন