রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌর শহরের কলেজপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
গৃহবধূর নাম জিয়াসমিন আক্তার (২৬)। তিনি কলেজপাড়া এলাকার সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আজগর শেখের স্ত্রী।
জিয়াসমিনের ভাই মহিউদ্দিন বলেন, যুবলীগের নেতা ফরিদ উত্ত্যক্ত করার কারণে তাঁর বোন আত্মহত্যা করেছেন।
মৃত গৃহবধূর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিয়াসমিন তাঁর ভাই লাল চাঁদকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। বৃহস্পতিবার সকালে লাল চাঁদ ফরিদপুর যাওয়ার জন্য ছোট ভাই মহিউদ্দিনের কাছে কিছু টাকা ধার চান। নিজের কাছে না থাকায় মহিউদ্দিন বোনের কাছে টাকা চাইতে বলেন। পরে মহিউদ্দিন নিজেই মুঠোফোনে জিয়াসমিনের কাছে টাকা চান। জিয়াসমিন তাঁকে পরে আসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি কয়েকবার ফোন করেও বোনকে না পেয়ে ওই বাসায় যান। সেখানে ঘরের সদর দরজা বন্ধ পেয়ে পেছনের খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে জিয়াসমিনকে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে তাঁকে দ্রুত নামিয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন।
জিয়াসমিনের বাবা ইসলাম মোল্যা ও মা কুলসুম বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় চার বছর আগে উজানচর জামতলা এলাকার আজগরের সঙ্গে জিয়াসমিনের বিয়ে দেন। বিয়ের কয়েক মাস পর আজগর সিঙ্গাপুরে চলে যান। এর পর থেকেই উপজেলার কুমড়াকান্দি গ্রামের ফরিদ জিয়াসমিনকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারে সালিস হয়। তিন মাস আগে কলেজপাড়ার ওই বাড়িতে বড় ছেলের সঙ্গে মেয়ের থাকার ব্যবস্থা করেন। এখানেও জিয়াসমিনকে উত্ত্যক্ত করতেন ফরিদ। জিয়াসমিনের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চেয়ে না পেয়ে ফরিদ পরিকল্পিতভাবে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখেন।
এদিকে ওই ঘটনার পর থেকে ফরিদ পলাতক। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাসির উল্যাহ জানান, গতকাল শুক্রবার ওই নারীর মা কুলসুম বেগম বাদী হয়ে ফরিদকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দানকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেছেন। এ ছাড়া ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসকেরা জিয়াসমিনের মাথার পেছন দিকে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ফরিদকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন