কেরানীগঞ্জ উপজেলার পানগাঁও আইন্তা খালের কিছু অংশ যুবলীগের স্থানীয় এক নেতা ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কিছু ব্যবসায়ী বালু ফেলে ভরাট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক মাস ধরে তাঁরা কাজটি করেছেন বলে জানা যায়। এ কারণে খালের পানিপ্রবাহের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে।
আইন্তা এলাকার স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানগাঁও আইন্তা খালটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোইচাবাড়ী এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী খাল। প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি পানগাঁও এলাকার বুড়িগঙ্গার মুখ থেকে শুরু হয়ে আইন্তা এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে এসে সংযুক্ত হয়। একসময় এ খালে নৌকা চলাচল করত। বর্তমানে খালের কিছু অংশে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে বালু ফেলে ভরাট করেছে ভূমিদস্যুরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ব্যবসায়ী রউফ সরদার, বাবুল মিয়া, আবুল হোসেন ও কোন্ডা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মিয়াসহ বেশ কয়েকজন খালটি ভরাট করে আবাসন প্রকল্পের প্লট তৈরি করে বিক্রির পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আইন্তা খালের কিছু অংশে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। আইন্তা এলাকার বাসিন্দা ফজলু মিয়া বলেন, খাল এভাবে ভরাট হতে থাকলে একসময় খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।
পানগাঁও এলাকার নৌকার মাঝি আক্কাছ আলী জানান, ‘এখানে নৌকা চালিয়ে একসময় আমি আমার সংসার চালাতাম। এখন এখন আমি অন্য ঘাটে খেয়ানৌকা চালাই।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সুলতান মিয়া বলেন, ‘আমি কোনো জায়গা ভরাট করিনি। আমার জানামতে, ওই জায়গাটি রউফ সরদারের পৈতৃক সম্পত্তি। রউফ সরদার নিজেই ওই জায়গাটি ভরাট করছেন।’
ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া জানান, তিনি ও আয়নাল হক দুই মাস আগে ৬২ শতাংশ জায়গা ঢাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন। তাঁর জমির পাশে রউফ সরদার ও আবুল হোসেন কিছু জায়গা কিনেছেন। ওই জমিগুলো সুলতান মিয়াকে ভরাট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভূমি কার্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী এ দাগে খালের কোনো জায়গা নেই।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবলীগ সভাপতি মাহমুদ আলম জানান, ‘খাল বা নদীর জায়গা ভরাট করা আইনবহির্ভূত কাজ। যদি আমার দলের কোনো নেতা-কর্মী এসব অপকর্মে জড়িত থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) শহীদুল হক পাটোয়ারীকে গতকাল রোববার পরিদর্শনে পাঠিয়েছেন। খোঁজখবর নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই খালের জায়গা ভরাট করতে দেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন