বরগুনার আমতলী উপজেলা যুবলীগের সভাপতির নেতৃত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার আমতলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হামলা চালিয়ে চারটি শ্রেণিকক্ষ ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে। তবে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জি এম হাসান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল বেলা ১১টার দিকে জি এম হাসানের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন প্রথমে অধ্যক্ষ মজিবুর রহমানের কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা অধ্যক্ষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে কলেজের একাডেমিক ভবনে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে চারটি শ্রেণিকক্ষের আসবাব ভাঙচুর এবং ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একটি সূত্র জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে স্নাতক ও উন্মুক্ত শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলছে। ভর্তি-বাণিজ্য নিয়ে যুবলীগের সভাপতির সঙ্গে অধ্যক্ষের দ্বন্দ্ব হয়। এরই জের ধরে হামলা, ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। জি এম হাসান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জি এম দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।
অধ্যক্ষ বলেন, ‘গতকাল হাসানের নেতৃত্বে ছাত্র ও যুবলীগের ২০-৩০ জন কর্মী আমার কক্ষে ঢুকে মাত্র ৫০০ টাকা ভর্তি ফি দিয়ে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে এক শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য চাপ দেয়। কিন্তু নির্ধারিত ফি তিন হাজার টাকা ছাড়া ভর্তি সম্ভব না বলে জানালে তারা ভাঙচুর শুরু করে। একপর্যায়ে তারা শ্রেণিকক্ষেও ভাঙচুর চালায়।’ লাঞ্ছিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর ও গালাগাল করলে লাঞ্ছিত করার কী বাকি থাকে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জি এম হাসান বলেন, ‘স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বাড়তি ভর্তি ফি নেওয়ার বিষয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে আমার কথা হয়। তবে হামলা, ভাঙচুর বা অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
আমতলী থানার ওসি সুকুমার রায় বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে কেউ অভিযোগ দেয়নি।
এর আগেও স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লাঞ্ছনা করেন। এ নিয়ে প্রথম আলোতে একাধিক সংবাদও প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন