default-image

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে লাইলী আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতন ও শিকলে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ শনিবার দুপুরে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর বড় ভাই আল-আমিন বাদী হয়ে লাইলীর স্বামী মিজানুর রহমান (২৫) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের উত্তর গোবিন্দপুর গ্রামে গত বৃহস্পতিবার রাতে যৌতুকের দাবিতে লাইলীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। গৃহবধূর স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শুক্রবার রাতে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন তিনি।

গৃহবধূর বড় ভাই আল-আমিন প্রথম আলোকে বলেন, লাইলী রাজধানীর মিরপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। মাস ছয়েক আগে মুঠোফোনে মিজানুরের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই পরিবারের সম্মতিতে সাড়ে চার মাস আগে দুজনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য লাইলীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন মিজানুর। বোনের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এর আগে অনেক কষ্ট করে তিন দফায় মিজানুরকে এক লাখ টাকা দেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার রাতে লাইলীর কাছে চার লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন মিজানুর। টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিজানুর ও তাঁর মা মিলে লাইলীকে মারধর করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে লাইলীর স্পর্শকাতর স্থানে মরিচের গুঁড়া ঢেলে তাঁকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। শুক্রবার দুপুরে লাইলীর শ্বশুরবাড়ি এলাকার এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে জানালে দ্রুত সেখানে গিয়ে লাইলীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সজীব ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, লাইলীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাঁকে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর বড় ভাই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার পর আসামিদের ধরতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশে কয়েক দফা অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু ঘটনার পরই আসামিরা পালিয়ে যাওয়ায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন