রংপুরে সোহেল মিয়া (২৫) নামের এক যুবকের মস্তকবিহীন দুই টুকরা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বেলা একটার দিকে নগরের বেতপট্টি ও গোমস্তাপাড়া সেতু এলাকার শ্যামাসুন্দরী খাল থেকে পৃথক দুটি বস্তার মধ্যে থাকা শরীরের দুই টুকরা উদ্ধার করা হয়।
এদিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মাঠেরহাট এলাকায় গত শুক্রবার রাতে রফিকুল ইসলাম (৩০) নামের অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রংপুর কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য সূত্র জানায়, রংপুর নগরের জুম্মাপাড়া এলাকার সবুজ মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া ওরফে ঢাকাইয়া সোহেল (২৫) কেব্ল টিভির লাইনে লাইনম্যানের কাজ করতেন। হঠাৎ কয়েক দিন ধরে তিনি নিখোঁজ হন। তার কোনো খোঁজ মিলছিল না। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর সন্ধান পাননি। সোহেলের পরিবারের লোকজন বেতপট্টি এলাকায় সোহেলের বন্ধুদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জানতে পারেন যে সোহেলকে হত্যা করে লাশ শ্যামাসুন্দরী খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সোহেলের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি বস্তায় ভরা দুই টুকরা লাশ উদ্ধার করে। তবে মাথাটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ সময় পুলিশ মিলন মিয়া (২৭) ও সুইপার সুবাসকে (২৩) আটক করে। তাদের দুজনেরই বাড়ি নগরের হনুমানতলা মারুয়াপট্টি এলাকায়।
থানা হেফাজতে সুবাস পুলিশকে বলে, গত বুধবার রাতে বেতপট্টিতে তাদের এক বন্ধুর বাড়িতে সোহেলকে নিয়ে যায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত। এরপর টাকা পয়সার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা সোহেলকে ছোরা দিয়ে কুপিয়ে তিন টুকরা করে। পরে তিন টুকরা তিনটি বস্তায় ভরে পাশের শ্যামাসুন্দরী খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহত সোহেলের বাবা সবুজ মিয়া বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে ছেলে নিখোঁজ ছিল। বিষয়টি থানায় অভিযোগ করি।’ এরপর তিনি আর বেশি কিছু জানেন না বলে জানান।
এ ব্যাপারে রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদের জিলানী বলেন, আটক সুবাস ও মিলন মিয়া দুজনই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেছে। এ ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য যারা জড়িত রয়েছে তাদের নামও জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ওসি আরও বলেন, নিহত সোহেল পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন সন্ত্রাসী ছিল। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার সহযোগী এবং গ্রেপ্তার তরুণেরা সবাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ধারণা করা হচ্ছে টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, দুর্বৃত্তরা রফিকুল ইসলামকে হত্যার পর তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পূর্বশত্রুতার জের ধরেও এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রফিকুল সাদুল্যাপুর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের ছয়েস উদ্দিনের ছেলে।
পলাশবাড়ী থানার পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রফিকুল ইসলাম গাইবান্ধা শহরের ডাকবাংলো অটোরিকশা স্ট্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত যাত্রীবেশে পলাশবাড়ী উপজেলার মাঠেরহাট এলাকায় যাওয়ার কথা বলে তার অটোরিকশা ভাড়া নেয়। এরপর থেকে রফিকুল ইসলামের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ওই দিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এলাকাবাসী মাঠেরহাট বাজার-সংলগ্ন ফাঁকা জমিতে গলাকাটা অবস্থায় লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ নিয়ে নিহতের বড় ভাই গোলাম রব্বানী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে পলাশবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0