রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার শেষে পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে (অস্ত্রোপচারের পর পর্যবেক্ষণের জন্য যেখানে রোগীকে রাখা হয়) মা থাকতেই ওয়ার্ড থেকে তাঁর নবজাতক সন্তান চুরি হয়ে গেছে। আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। সন্তান হারিয়ে বাবা পাগলের মতো ছোটাছুটি করছেন।

এদিকে নবজাতক চুরির ঘটনা তদন্তে সার্জারি বিভাগের প্রধান আবদুল মোমেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী ১ জানুয়ারি কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রাতে আবদুল মোমেন প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা কিছুক্ষণের মধ্যে কাজ শুরু করবেন

সন্তান হারানো এই মায়ের নাম রুবিনা খাতুন (২২)। স্বামী তরিকুল ইসলাম একজন দরিদ্র কৃষক। তাঁদের বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌর এলাকার সুরশুনিপাড়া মহল্লায়।
তরিকুল ইসলাম জানান, গতকাল রোববার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। আজ বেলা দুইটার দিকে অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে রুবিনা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এটি তাঁদের প্রথম সন্তান। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর স্ত্রীকে পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে রাখা হয়। তিনি স্ত্রীর সঙ্গেই ছিলেন। তাঁর নানিশাশুড়ি রহিমা বেগম বাচ্চাকে ওয়ার্ডে নিয়ে এসে বাচ্চার গায়ে তেল মাখাচ্ছিলেন।
তরিকুল বলেন, অস্ত্রোপচারকক্ষ থেকে বের করার আধ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর নানিশাশুড়ির হাত থেকে বোরকা ও গোলাপি রঙের চাদর পরা অল্পবয়সী একজন মেয়ে তাঁর বাচ্চাকে নিয়ে যায়। তরিকুল বলেন, তিনি চিকিৎসক ও হাসপাতালের পুলিশ বক্সে খবর দেন।

রহিমা বেগম বলেন, তিনি তেল মাখাচ্ছিলেন। এ সময় বোরকা পরা এক মেয়ে এসে শিশুটিকে কাপড় দিয়ে ধরার পরামর্শ দেন। এ সময় মেয়েটি তাঁর (রহিমা) হাত থেকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে কাপড় আনতে বলে। তিনি কাপড় আনতে গেলে ওই সুযোগে মেয়েটি বাচ্চাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। কাপড় হাতে নিয়ে পেছন ফিরে তিনি দেখেন মেয়েটি আর নেই।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রহিমা বেগম দুহাতে বাচ্চার কাপড়চোপড় নিয়ে আহাজারি করছেন। আর বলছেন, কেন তিনি কাপড় নিতে গেলেন।

বাবা তরিকুল পাগলের মতো শুধু ছোটাছুটি করছেন। কখনো মাথায় হাত দিচ্ছেন। কখনো বুক চাপড়াচ্ছেন। সদ্য মা হওয়া রুবিনা তখনো পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে। জানতেন না কিছুই। সাংবাদিকেরা তাঁর ছবি তুলতে গেলে তিনি কী হয়েছে জানতে চান। একপর্যায়ে তাঁর সন্তান চুরির বিষয়টি জানতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এদিকে, ওয়ার্ড থেকে নবজাতক চুরির খবর পেয়ে ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ছুটে যান রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিনসহ চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।
পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও হাসপাতালের কর্মচারীরা হাসপাতালের সব কটি গেটসহ পুরো হাসপাতালে তল্লাশি চালান। তবে তার আগেই চোর শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশ-র‌্যাবসহ সরকারের সব বাহিনী শিশুটি উদ্ধারের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। পাশের বিছানায় বাচ্চা মারা যাওয়া একটি দম্পতিকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁদের ঠিকানায়ও পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

২০১১ সালের ২১ মে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে এক নবজাতক কন্যাশিশুকে চুরি করে চার হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। শিশুটির মায়ের নাম শিখন বেগম। তাঁদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। হাসপাতাল কতৃ‌র্পক্ষ অবশ্য অভিযান চালিয়ে নাটোর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি হাসপাতালের একই ওয়ার্ড থেকে এক নবজাতক চুরি হয়।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন