দরপত্র নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের এক কর্মকর্তাকে ভয় দেখাতে রেলভবনে ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এবং রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সাবেক প্রশাসক জিয়াউল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
নগরের বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, দরপত্রের একটি বিষয় নিয়ে লোকজনকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য জিয়াউল হক রেলভবনে তিনটি গুলি করেন। এ জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
জিয়াউল হক সদ্য বিলুপ্ত রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ২০১১ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির প্রশাসক ছিলেন।
রেলভবনের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, গতকাল বিকেল চারটার দিকে জিয়াউল হক লোকজন নিয়ে রেলভবনের সরঞ্জাম শাখায় যান। এ সময় তিনি সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা গোলাম আম্বিয়ার কাছে একটি দরপত্রের ফাইলে স্বাক্ষর হয়েছে কি না, জানতে চান। জবাবে ওই কর্মকর্তা তাঁকে জানান, ফাইলে কিছু সমস্যা রয়েছে। তাই স্বাক্ষর হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জিয়াউল হক তাঁর ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাঁকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে কার্যালয় থেকে বের হয়ে আসেন। তিনি বাইরে এসে ওই কর্মকর্তাকে আবারও ভয় দেখাতে পকেট থেকে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল বের করে তিনটি গুলি ছোড়েন। তারপর সেখান থেকে চলে আসেন।
ওই ঘটনার পরে গতকাল বিকেলে রেলভবনে গিয়ে দেখা যায়, রেলওয়ে সরঞ্জাম শাখার দেয়ালে গুলির চিহ্ন আছে। কিন্তু ওই শাখার কোনো কর্মকর্তাই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।
কর্মকর্তা গোলাম আম্বিয়ার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
খবর পেয়ে নগরের বোয়ালিয়া থানার পুলিশ জিয়াউল হককে ধরতে নগরের অলকার মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় তিনি শিল্প ও বণিক সমিতির কার্যালয়ে ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কার্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
বোয়ালিয়া থানার এসআই মতিউর রহমান গতকাল রাতে এ ঘটনায় জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ১৯/এ ধারায় এবং দ্রুত বিচার আইনের ৪ ধারায় মামলা করেছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন