default-image

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় সাভারের রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে বিচারিক আদালতের দেওয়া জামিন কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ রুল দেন। আর রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সোহেল রানাকে নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন স্থগিত করা হয়েছে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সোহেল রানার বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলাটি করে দুদক। এতে ২ কোটি ৫৪ লাখ ৪৩ হাজার ৭৯৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এই মামলায় গত ১৭ মে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত থেকে জামিন পান সোহেল রানা। এর বিরুদ্ধে দুদক হাইকোর্টে আবেদন করে। এর শুনানি নিয়ে গত ৮ জুন হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য জামিন স্থগিত করেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি ওঠে।

আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং সোহেল রানার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. কায়সার জাহিদ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক।

বিজ্ঞাপন

পরে মো. কায়সার জাহিদ ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‌‌‌‌‌গত ৮ জুন হাইকোর্টের একক বেঞ্চ নিয়মিত আদালত খোলার পর এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের জন্য সোহেল রানার জামিন স্থগিত করেন। এরপর বিষয়টি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে, তা আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সোহেল রানাকে নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন। এই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন স্থগিত করা হয়েছে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রাখার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে সর্বশেষ দাখিল করা আয়কর বিবরণীতে সোহেল রানা সাভার বাজার রোডের ১০ শতাংশ জমির ওপর ‘রানা টাওয়ার’ নামে নির্মিত আটতলা ভবনের চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ ব্যয় দেখিয়েছেন ১ কোটি ৩০ লাখ ৮৬ হাজার ৫৯৪ টাকা। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিরূপিত নির্মাণ ব্যয় অনুযায়ী ভাবনটির চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ ব্যয় দাঁড়ায় ৩ কোটি, ৫৯ লাখ ২৮ হাজার ৫৭৩ টাকা এবং পাঁচতলা থেকে আটতলা পর্যন্ত নির্মাণ ব্যয় দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৫০৮ টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী সোহেল রানা তাঁর দাখিল করা আয়কর বিবরণীতে চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ ব্যয় বাবদ ২ কোটি ২৮ লাখ ৪১ হাজার ৯৭৯ টাকা কম প্রদর্শন করেছেন।

এ ছাড়া একই সময়ে এক্সিম ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক সাভার শাখায় জমা ও হাতে নগদ বাবদ দেখিয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৫ টাকা। অথচ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার সময় তাঁর ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৭৬৭ টাকা।

মামলার বিবরণীতে আরও বলা হয়, সোহেল রানা ভবন নির্মাণ ব্যয় ও ব্যাংক হিসাবে মোট ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার সম্পদ তাঁর দখলে রেখেছেন, যা তিনি অসাধু উপায়ে অর্জন করেছেন। জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ ভোগদখলে রেখে সোহেল রানা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৭(১) ধারায় অপরাধ করেছেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এতে সহস্রাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে ওই দিনই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে।

অবহেলাজনিত মৃত্যুর ঘটনার অভিযোগে ছয়জনকে আসামি করে ২৫ এপ্রিল সাভার মডেল থানার অপর মামলাটি করে পুলিশ। ওই বছরের ২৮ এপ্রিল সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন