default-image

কক্সবাজারে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছেন দুর্বৃত্তরা। গত ২৮ জানুয়ারি তিন দুর্বৃত্ত কিশোরীকে কক্সবাজারের একটি সড়ক থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। ওই দিন রাতে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে মাইক্রোবাসের মধ্যেই কিশোরীর হাত-পা বেঁধে একবার ধর্ষণ করেন। এর পরদিন রাতে সেখান থেকে তিন দুর্বৃত্ত ওই কিশোরীকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও কলেজ মাঠে এনে আরেকবার ধর্ষণ করেন। ৩০ জানুয়ারি ঈদগাঁও বাজারের একটি মার্কেটের দোতলায় আটকে রাখা হয় কিশোরীকে।

সেখানে চারজন তৃতীয়বার ধর্ষণের চেষ্টা করলে কিশোরীর চিৎকার শুনে টহল পুলিশ এগিয়ে আসে।

পুলিশের একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, কিশোরীর চিৎকারে ঘটনাস্থলে এলে চারজনের মধ্যে তিনজন পালিয়ে যান। তাঁরা একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে প্রথমে থানায় নিয়ে আসে। এরপর চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য ওই কিশোরীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। এখন ওই কিশোরীকে কক্সবাজার শহরের হোটেল–মোটেল জোন এলাকার একটি বেসরকারি সংস্থার সেফহোমে রাখা হয়েছে।

পুলিশ এবং ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানক ধলঘাটপাড়া থেকে সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের এক বান্ধবীর ছোট ভাইয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আসছিল ওই কিশোরী। বিকেল চারটার দিকে কিশোরী ধলঘাটপাড়ার একটি লন্ড্রির সামনে পৌঁছালে তিন দুর্বৃত্ত তাকে (কিশোরীকে) মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যান। ওই কিশোরী পুলিশকে জানিয়েছে, মাইক্রোতে চিৎকার করলে তার মুখে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ বলেছে, ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আটক হয় জাফর প্রকাশ খোরশেদ নামে একজন। আরেক দুর্বৃত্ত আহাম্মদ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামলার পর। তাঁদের কাছ থেকে ঘটনাস্থলসহ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। গতকালই এ দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ড চাইবে।

২৯ জানুয়ারি রাতে কিশোরীকে উদ্ধারের পরদিন ৩০ জানুয়ারি ঈদগাঁও থানায় মামলা করেন মেয়েটির নানা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়। তাঁরা হলেন ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে আহাম্মদ উল্লাহ (২৬), ঈদগাঁও ইউনিয়নের উত্তর মেহেরঘোনা গ্রামের ছব্বির আহমদের ছেলে জালাল প্রকাশ ওরফে টুক্কুইল্যা (১৯), ইসলামাবাদ ইউনিয়নের খোদাইবাড়ী এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে জাফর আলম (৪০) এবং একই এলাকার মো. ইদ্রিসের ছেলে জাফর আলম প্রকাশ খোরশেদ (৫৫)। এর মধ্যে জালাল প্রকাশ ও জাফর আলম পলাতক।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নিজেই মামলাটির তদন্ত করছেন। গতকাল বিকেলেই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ঘটনাস্থলে কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

কিশোরীর নানার করা মামলার এজাহারে বলা হয়, কিশোরী কক্সবাজারের ধলঘাটার একটি লন্ড্রির সামনে পৌঁছালে সাদা রঙের একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস এসে থামে। এরপর গাড়ি থেকে তিনজন নেমে কিশোরীর মুখ চেপে ধরে গাড়িতে তোলেন।

কিশোরী চিৎকার করলে তার মুখ ফেলেন তাঁরা। এরপর রাতে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট ও ২৯ জানুয়ারি রাত তিনটায় ঈদগাঁও কলেজ মাঠে ওই তিন আসামি কিশোরীকে দল বেঁধে ধর্ষণ করেন। ৩০ জানুয়ারি ভোরে ঈদগাঁও বাজারের ডিসি সড়কের জাপানি মমতাজ মার্কেটের দ্বিতীয়তলার একটি কক্ষে কিশোরীকে নেওয়া হয়। সেখানে চারজন মিলে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে কিশোরী চিৎকার করে। এরপর বাজারে টহলরত পুলিশ এসে ওই কক্ষ থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে জাফর আলম প্রকাশ খোরশেদকে গ্রেপ্তার করে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন