default-image

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিষনন্দী ফেরিঘাটে সড়ক ও জনপথের রাস্তা দখল করে বালু বিক্রি করছেন এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি। এক বছর ধরে ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে এ কাজ করছেন তাঁরা। ফলে প্রতিনিয়ত ওই সড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, আড়াইহাজার উপজেলার সঙ্গে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে আড়াইহাজার উপজেলার তালতলা মোড় থেকে বিষনন্দীসংলগ্ন মেঘনা নদী পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার অধিগ্রহণ করে সওজ কর্তৃপক্ষ। বাঞ্ছারামপুর-আড়াইহাজার রুটে মেঘনা নদীতে যান পারাপারের জন্য বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় কড়িকান্দিতে এবং আড়াইহাজার উপজেলার বিষনন্দীতে ফেরিঘাট নির্মাণ করা হয়। বিষনন্দী ফেরিঘাটসংলগ্ন ৩০০ মিটার ছাড়া পুরো রাস্তাই ১৮ ফুট পাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়াইহাজার উপজেলার বিষনন্দী গ্রামের আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি ১০-১২ দিন আগে ড্রেজিং করে বালু তুলে সেগুলো দিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জায়গা ভরাট করছেন।
সরেজমিনে বিষনন্দী ফেরিঘাটে দেখা যায়, উত্তর প্রান্তের ঘাটের পন্টুন পর্যন্ত ইট বিছানো রাস্তার ভাঙন রোধে উত্তরাংশে কয়েক শ গাছের গুঁড়ি দেওয়া হয়। গাছের গুঁড়ির কয়েক ফুট উত্তর দিকে পাকা দেয়াল রয়েছে। ওই দেয়াল, গাছের গুঁড়ি এবং রাস্তার ওপর প্রায় পাঁচ শতক জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। আবার ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে সেগুলো বিক্রিও করা হচ্ছে। এ ছাড়া নদীর ৫০০ মিটার পর থেকে রাস্তায় বালু ফেলে তা বিক্রি করছেন অন্তত ছয় থেকে সাতজন ব্যক্তি।

default-image

নারায়ণগঞ্জ সওজের কার্য-সহকারী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আবুল কালাম বালু ভরাট করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জায়গা দখল করেছেন। আমরা তাঁকে বাধা দিয়েছি, কিন্তু তিনি তা শুনেননি।’
আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা দুই ভাগে কয়েকজন মিলে বালু রেখে বিক্রি করছি। শাহিন মিয়া, কামরুল হোসেনসহ আমরা একসঙ্গে বালুর ব্যবসা করছি। এক বছর ধরেই এই ব্যবসা চলছে। আমাদের এখানে রাস্তার ধারে বালু ফেলে ব্যবসা করতে কেউ নিষেধ করেনি, নিষেধ করলে তো আমরা এখানে বালু বিক্রি করতাম না।’ এ ছাড়া পাইপ রাখার জন্য ঘাটের রাস্তা এবং তাঁর চাচাতো ভাইয়ের জায়গা মিলে বালু ভরাট করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
একই গ্রামের আসাদ মিয়া বলেন, এখানে রাস্তা হওয়ার আগে থেকেই তিনি বালুর ব্যবসা করছেন। তাঁর সঙ্গে দুলাল মিয়া এক বছর আগে যোগ দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সওজের জায়গায় বালু ফেলে বিক্রি করায় তাঁদের কেউ বাধা দেয়নি। তা ছাড়া সেখানে তাঁদেরও জায়গা আছে বলে তাঁরা বালু রেখে বিক্রি করছেন।
নারায়ণগঞ্জ সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী ছিদ্দিকুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘সওজের জায়গা দখলকারীদের বাধা দেওয়ার বিষয়টি সঠিক। আমরা শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করব।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন