জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে এবার দায়মুক্তি পেয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের স্ত্রী ইলা হক ও ছেলে জিয়াউল হক। অনুসন্ধান কর্মকর্তার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁদের অব্যাহতি দেয় বলে দুদকের সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে রুহুল হককেও একই অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেয় দুদক।
দুদক সূত্র জানায়, নবম জাতীয় সংসদের ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর হলফনামা নিয়ে গত বছরের জানুয়ারি থেকে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৭০ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সাংসদের হলফনামা ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য থেকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকসহ ৭ প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপির সম্পদ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
হলফনামা অনুযায়ী সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হকের স্ত্রী ইলা হকের সম্পদ গত পাঁচ বছরে ৭৮২ শতাংশ বেড়েছে, রুহুল হকের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ১১০ শতাংশ। ব্যাংক হিসাবের বেশির ভাগই স্ত্রী ইলা হকের নামে। ২০০৮ সালে রুহুল হক ও তাঁর স্ত্রীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল ৯২ লাখ ৩৬ হাজার ১০৮ টাকা। এখন তাঁদের ব্যাংকে রয়েছে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৩ টাকা। সে সময় ইলা হকের নামে ব্যাংকে ছিল মাত্র চার লাখ ৬৪ হাজার ৩০ টাকা। এখন সাত কোটি ৫৩ লাখ ১১ হাজার ২৪০ টাকা।
রুহুল হক ও তাঁর পরিবারের অন্য দুই সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করেন দুদকের উপপরিচালক মীর্জা জাহিদুল আলম। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুদকে ডেকে নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে রুহুল হক দাবি করেন, হলফনামায় উল্লেখ করা তাঁর ও ইলা হকের সম্পদের হিসাবে সংখ্যাগত ভুল হয়েছে এবং সেটা অসাবধানতাবশত হয়েছে ।
‘হলফনামায় দেওয়া তথ্য ভুল ও অসাবধানতাবশত হয়েছে’—রুহুল হকের এ দাবি গ্রহণ করে গত বছরের অক্টোবরে তাঁকে অব্যাহতি দেয়। একই যুক্তিতে তাঁর স্ত্রী ইলা হক এবং ছেলে জিয়াউল হককেও অব্যাহতি দেওয়া হলো।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন