বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

মামলার বাকি আসামিরা হলেন বাহাউল মোস্তফা, তৌফিকুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, গাজীউল আলম, ঝুলন ধর, প্রিয়তম ধর, ঝন্টু ধর ও ইফতেখার আলম। পুলিশ জানায়, ঝুলন, প্রিয়তম ও ঝন্টু ডাকাতির মালামাল কেনেন। এ ছাড়া বাকিরা এমদাদের সোর্স (তথ্যদাতা)। আসামিদের মধ্যে ইফতেখার পলাতক। বাকি সবাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে। এতে এমদাদের জড়িত থাকার কথা উঠে আসে।

সোনার বার ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ২টি সোনার বার, হাতের চুড়িসহ প্রায় ৩৭ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে নিয়ে আসেন গিয়াস উদ্দিনের ভাইসহ দুই প্রবাসী। কাস্টমসের শুল্ক পরিশোধ করে ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের হাতে তুলে দেওয়া হয় এসব সোনা। গিয়াস উদ্দিন তাঁর বন্ধু বাহাউল মোস্তফার মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ি রাউজানের উদ্দেশে বিমানবন্দর থেকে রওনা হন। মূলত বন্ধু বাহাউল মোস্তফার কাছ থেকে গিয়াসের গতিবিধি জেনে নেন আসামিরা। বাহাউল আসামিদের পূর্বপরিচিত। তাঁদের মোটরসাইকেলটি বিমানবন্দরের অদূরে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের আউটার রিং রোডের মুসলিমাবাদ এলাকায় পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাস এসে গতিরোধ করে। এ সময় আসামিরা গিয়াসকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে সব ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নগরের পতেঙ্গা থানায় র‍্যাব পরিচয়ে ডাকাতির অভিযোগে মামলা করেন।

শুরু থেকে মামলাটি তদন্ত করেন পতেঙ্গা থানার এসআই মহিউদ্দিন। ঘটনার ৯ দিনের মাথায় ব্যবসায়ীর সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলের চালক তাঁর বন্ধু বাহাউল মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর খুলতে শুরু করে জট।

এস আই মহিউদ্দিন এখন নগরের হালিশহর থানায় কর্মরত। মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সাক্ষী ও আসামিদের জবানবন্দি এবং তদন্তে র‍্যাবের সাবেক সদস্য এমদাদ উল্লাহর পরিকল্পনা ও নির্দেশে ব্যবসায়ীর স্বর্ণালংকার ডাকাতির সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার দিন আশপাশে থেকে তিনি মুঠোফোনে পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেন। এ জন্য তাঁকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানি আগামী ২৭ জানুয়ারি। মহিউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় চার ভরি স্বর্ণ এবং স্বর্ণ বিক্রির চার লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে এমদাদ উল্লাহর বক্তব্য জানতে গত রোববার ও গতকাল সোমবার কয়েকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি। পরে গতকাল দুপুরে বিজিবি-১২ রাঙামাটি জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল সফিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করেছে।’ সফিকুর জানান, ঘটনার সময় তিনি র‍্যাবে ছিলেন। অভিযুক্ত বিজিবি সদস্য গ্রেপ্তার কিংবা কারাগারে গেলে সাময়িক বরখাস্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন