default-image

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে একজনকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে পাটগ্রাম থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। আজ রোববার সকালে ওই চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলায় মোট গ্রেপ্তার হলেন ২৯ জন। জেলা ডিবির ইনচার্জ ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত শনিবার রাতে গ্রেপ্তার চারজন হলেন মাইনুল ইসলাম  (২৬), হাসানুল রহমান (২৪), আবদুল রহিম (২২) ও সোহেল (২০)। তাঁরা বুড়িমারী ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

এর আগে শনিবার ভোরে এজাহারভুক্ত আসামি আবুল হোসেন ওরফে হোসেন আলীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

পাটগ্রাম থানা-পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তার আবুল হোসেন পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা ও পুলিশের ওপর হামলার দুই মামলার প্রধান (১ নম্বর) আসামি। এ সম্পর্কে জেলা ডিবির ইনচার্জ ওমর ফারুক বলেন, ‘আবুল হোসেন ইতিমধ্যে আমাদের হেফাজতে এসেছে। সোমবার তাঁকে লালমনিরহাট আদালতে নেওয়া হবে। রিমান্ডের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

গত ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় পাটগ্রামে পবিত্র কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে আবু ইউনুস মোহাম্মদ শহীদুন্নবী নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। নিহত শহীদুন্নবী রংপুর শহরের শালবন রোকেয়া সরণি এলাকার আবদুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক।

এ ঘটনায় শহীদুন্নবীর চাচাতো ভাই সাইফুল আলম, পাটগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী ও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত তিনটি মামলা করেন। শনিবার গ্রেপ্তার আবুল হোসেন প্রথম দুটি মামলার ১ নম্বর আসামি। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনটি মামলারই।

পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে আজ রোববার পর্যন্ত তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দুই দফায় রিমান্ডে নেওয়া ৯ জন আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।

মন্তব্য পড়ুন 0