মুঠোফোনে অভিযোগ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে টাকা বিতরণ বন্ধ করে দেয়। পরে এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রোববার উপজেলার কয়ড়া বাজার-সংলগ্ন ফারুক হোসেনের বাড়িতে ওই দুই ইউনিয়নের ১১টি আনন্দ স্কুলের ১৩৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে  উপবৃত্তির ১ হাজার ৬০০টাকা করে বিতরণ করা হচ্ছিল। ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীর হাতে টাকা তুলে দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকেরা ওই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোর করে এক হাজার টাকা করে আদায় করেন। এ সময় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের বিরোধ বাধে। অভিভাবকেরা বিষয়টি মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানালে তিনি তাৎক্ষণিক উপবৃত্তির টাকা আপাতত বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে সবাইকে উপজেলা কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়।

শিক্ষার্থী মাহেরা খাতুন, লিটন মিয়া ও লিজা খাতুন এবং অভিভাবকদের পক্ষে শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু প্রতি মাসে ১০০ টাকা ও বই কেনার জন্য ৪০০ টাকাসহ বছরে মোট ১ হাজার ৬০০ টাকা দেওয়া হয়। এখন শিক্ষকেরা নানা খরচের কথা বলে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জোর করে এক হাজার টাকা করে নিয়ে নিচ্ছেন। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবাই দরিদ্র। বৃত্তির এই টাকাটা তাদের খুব দরকার।

এ বিষয়ে কয়ড়া আনন্দ স্কুলের শিক্ষক সুফিয়া খাতুন বলেন, আনন্দ স্কুলের সব শিক্ষকদের সমঝোতার ভিত্তিতেই টাকাটা নেওয়া হচ্ছিল। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মডেল টেস্টসহ বছরে ছয়টি পরীক্ষা বাবদ তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে আনা-নেওয়া ও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার নিবন্ধনের জন্য অনেক টাকা ব্যয় হয়। এই খরচ পোষাতে উপবৃত্তি থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল। আত্মসাতের অভিযোগ ঠিক নয়।

ইউএনও শামীম আলম বলেন, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক বৃত্তির টাকা বিতরণ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। লিখিত অভিযোগও পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন