পটুয়াখালীর বাউফলে শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে গতকাল রোববার জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ ছিল। চিফ হুইপকে অভিনন্দন জানাতে সড়কের পাশে তৈরি করা হয়েছিল ১৯টি তোরণও।
উপজেলার কাছিপাড়া আবদুর রশিদ মিয়া ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পরিষদের দ্বিতীয়বারের জন্য আ স ম ফিরোজ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ওই কলেজ মাঠে গণসংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ওই কলেজের শিক্ষক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আক্তার।
এর আগে ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সদরে আ স ম ফিরোজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তখনো বাউফল কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
গত বছর নিজ এলাকায় এক গণসংবর্ধনায় ক্রেস্টের বদলে ক্যাশ চেয়ে আলোচনায় আসেন আ স ম ফিরোজ। এরপর এক আলোচনা সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি, আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা জানান, গতকাল সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চিফ হুইপ বিলম্বে আসায় দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের রাস্তার দুই পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। চিফ হুইপের আগমনকে কেন্দ্র করে কালিশুরি থেকে কাছিপাড়া আবদুর রশিদ মিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ পর্যন্ত সড়কে তৈরি করা হয় ১৯টি তোরণ। তিনটি গরু জবাই করে ভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ওই ইউনিয়নের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিত হতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে অন্তত পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ ছিল।
কাছিপাড়া আবদুর রশিদ মিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘কাউকে বাধ্য করার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা উপস্থিত থেকে চিফ হুইপের দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ শুনেছেন।’ রাস্তার পাশে শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে দাঁড় করানো হয়নি কিংবা দাঁড়ায়নি।
মো. বাবুল আক্তার বলেন, ‘কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দাঁড়াতে বলা হয়নি। যাঁরা এসেছেন, তাঁরা নিজেদের ইচ্ছাতেই এসেছেন।
সংবর্ধনায় চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি দেশে পরিণত করতে চান।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন