ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোপালপুর গ্রামে আবদুল কুদ্দুস (৩৫) নামের একজন ভ্যানচালক প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকালে গোপালপুর গ্রামের আজিজুল ইসলামের বাড়িতে তাঁর বাবা কেয়াম উদ্দিনের কুলখানির অনুষ্ঠান চলছিল। কেয়াম উদ্দিন নিত্যানন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শৈলকুপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মফিজ উদ্দিনের সমর্থক। অনুষ্ঠানে মফিজ উদ্দিনের প্রতিপক্ষ একই ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি ফারুক হোসেনেরও দাওয়াত ছিল।
মফিজ উদ্দিন জানান, ফারুক হোসেন শুরু থেকেই অনুষ্ঠানটি ভন্ডুল করে দেওয়ার পাঁয়তারা করছিলেন। এই উদ্দেশে গোপালপুর গ্রামের রোস্তম আলীকে গতকাল সকালে ফারুকের সমর্থকেরা মারধর করেন। এর পরও তাঁরা অনুষ্ঠানের স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিবাদ করেননি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফারুক হোসেনের শতাধিক সমর্থক এসে কুলখানি অনুষ্ঠানে হামলা চালান। এ সময় আজিজুল ইসলামের বাড়ির লোকজন তাঁদের প্রতিরোধ করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, ফারুক হোসেনের সমর্থকদের হামলায় মফিজ উদ্দিনের সমর্থক আবদুল কুদ্দুস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এতে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কামাল হোসেন, আবদুল হক ও আরিফুল ইসলাম নামের তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে ফারুক হোসেন দাবি করেছেন, রোস্তম আলী তাঁর সমর্থক। তাঁকে মারধরের কারণ জানতে গেলে এই সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে এলাকার বিএনপির সমর্থকেরা মফিজ উদ্দিনের পক্ষ নেন। এতে আবদুল কুদ্দুস নামের বিএনপির এক কর্মী মারা গেছেন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছগির মিঞা জানান, কুলখানির অনুষ্ঠানে হামলাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। তবে কেউ মামলা করেনি।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন