default-image

রাজধানীর শ্যামলীতে গতকাল শনিবার সকালে গোলাম মাওলা (৪০) নামের ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টের ওপর হামলা চালিয়েছেন অবরোধ-সমর্থনকারীরা। হামলায় তাঁর মাথা ফেটে যায়। আঘাত পান বাঁ হাতেও। তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সন্ধ্যায় বঙ্গবাজার এলাকায় পুুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল হামলা চালানো হয়েছে।
বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম-খুন বন্ধ না হলে এর সঙ্গে জড়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে—গত শুক্রবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের এমন বিবৃতির পরদিন পুলিশের ওপর এ হামলা হলো।
গতকাল সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গোলাম মাওলা প্রথম আলোকে বলেন, শ্যামলীর শিশু মেলা এলাকায় তাঁর দায়িত্ব ছিল। সকাল আটটার দিকে হঠাৎ ৩০-৪০ জন যুবক ছাত্রলীগের একটি ব্যানার নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে শিশু মেলাসংলগ্ন মোড়ের দিকে যেতে থাকেন। তখন তিনি মোড়ে মোটরসাইকেলে ছিলেন। মিছিলটি তাঁর দিকেই এগিয়ে আসছে দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে নিরাপদ দূরত্বে যাওয়ার চেষ্টা করতেই কয়েকজন যুবক দৌড়ে এসে বেশ কয়েকটি ককটেল ফাটিয়ে তাঁর ওপর হামলে পড়েন। যুবকেরা প্রথমে তাঁর মাথায় থাকা হেলমেটে ভারী বস্তু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থেকে তিনি পড়ে যান। এরপর হেলমেট খুলে নিয়ে মাথায় আঘাত করতে থাকেন তাঁরা।
গোলাম মাওলা বলেন, তাঁকে যখন মারা হচ্ছিল তখন একজন ছবি তুলছিলেন। এর মধ্যেই যুবকদের দু-তিনজন জামায়াত-শিবির লেখা একটা ব্যানার বের করে সেটারও ছবি তোলেন এবং চলে যান। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, হেলমেট খুলে নিয়ে ইট দিয়ে আঘাত করায় তাঁর মাথা ফেটে গেছে। সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন আটজনকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি মৎস্য ভবনের কাছে পুলিশের বাসে পেট্রলবোমা ছোড়েন অবরোধ-সমর্থকেরা। এতে পাঁচ পুলিশ আহত হন। তাঁদের মধ্যে কনস্টেবল শামীম মিয়া গত বৃহস্পতিবার সকালে স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান।
পুলিশের গুলিতে আহত ২: বঙ্গবাজার এলাকায় সন্ধ্যায় পুলিশের ছোড়া শটগানের গুলিতে আবদুর রহমান (৩০) ও আবদুল মোমেন (৩৮) নামের দুজন আহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ওই দুজন। এরপর পুলিশ গুলি ছুড়লে তাঁদের পায়ে লাগে।
আবদুর রহমানের ডান পায়ের হাঁটু ও আবদুল মোমেনের বাঁ পায়ের হাঁটুতে গুলি লেগেছে। পুলিশের হেফাজতে দুজনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শাহবাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক আবদুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, এক মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবক তাঁদের টহল গাড়ি লক্ষ্য করে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তাঁরা গাড়ি থেকে নেমে ওই যুবকদের লক্ষ্য করে গুলি করেন। এতে দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন