default-image

তিন দশক আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে সগিরা মোর্শেদ সালাম (৩৪) হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ সোমবার মামলার বাদী নিহত সগিরা মোর্শেদের স্বামী সালাম চৌধুরী আদালতে সাক্ষ্য দেন। ২০ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) তাপস কুমার পাল প্রথম আলোকে বলেন, ৩০ বছর আগের সগিরা মোর্শেদ খুনের মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।

মামলার বাদী সালাম চৌধুরীর আংশিক জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন আদালত। এর আগে গত ২ ডিসেম্বর এই মামলার চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। গত বছরের ২১ জানুয়ারি সগিরা মোর্শেদ সালাম হত্যার ঘটনায় মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে। সগিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি মারুফ রেজা, আনাস মাহমুদ, আনাসের দুলাভাই চিকিৎসক হাসান আলী চৌধুরী (নিহত সগিরার ভাশুর) ও তাঁর স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহীন। এই মামলায় তিন আসামি কারাগারে আছেন। জামিনে আছেন সায়েদাতুল মাহমুদা শাহীন। নিহত সগিরা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদ ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তের কবলে পড়েন। একপর্যায়ে দৌড় দিলে তাঁকে গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সগিরা মোর্শেদ মারা যান। সেদিনই রমনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর স্বামী সালাম চৌধুরী। প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক জড়িত দুজনের কথা বললেও মিন্টু ওরফে মন্টু নামের একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। নেওয়া হয় সাতজনের সাক্ষ্য। বাদীপক্ষের সাক্ষ্যে আসামি মন্টু ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসানের নিকটাত্মীয় মারুফ রেজার নাম আসে। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২৩ মে বিচারিক আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে মারুফ রেজা হাইকোর্টে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯১ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট রুল দিয়ে অধিকতর তদন্তের আদেশ স্থগিত করেন। পরের বছরের ২৭ আগস্ট অপর এক আদেশে হাইকোর্ট ওই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ান। এতে থমকে যায় মামলার কার্যক্রম।

বিষয়টি নজরে এলে ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ২৬ জুন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ মামলার অধিকতর তদন্ত আদেশে ইতিপূর্বে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে ওই মামলার অধিকতর তদন্ত শেষ করতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন