ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে এক নবজাতককে তার বাবা আছাড় দিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রোববার উপজেলার বৃদ্ধিগাঁও হরিপদ মাস্টারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংসারে অভাব থাকায় তিনি তাঁর সন্তানকে হত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

গ্রামবাসীরা জানান, গত রোববার সকাল আটটায় দিনমজুর সুদেব চন্দ্রের স্ত্রী শিল্পী রানী এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাজ থেকে ফিরে স্ত্রীর কাছ থেকে নিয়ে ছেলেকে বারান্দায় আছাড় মারেন। এতে শিশুর মাথা থেঁতলে রক্ত ঝরতে থাকে। তখনই শিশুটি মারা যায়। ঘটনার পর সুদেব বাড়ি থেকে চলে যান। বিকেলে বৈরচুনা ইউনিয়নের পারঘাটা সেতুর কাছে গ্রামবাসী তাঁকে ধরে বাড়িতে আনেন। খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যায় সুদেবকে গ্রেপ্তার করে এবং নবজাতকের লাশ থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় নবজাতকের মামা সতুল চন্দ্র রায় বাদী হয়ে সুদেবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানাহাজতে কথা বলার অনুমতি না দেওয়ায় আসামি সুদেবের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সুদেবের বরাত দিয়ে জাবরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সবীর বলেন, সুদেবের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবা ছয়-সাত মাস ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। বাবার চিকিৎসা, এক মেয়ে, স্ত্রী ও নিজের খাদ্য জোগাড় করতে হয় দিনমজুরি করে। অভাবের সংসারে আরেক সন্তানের জন্ম হওয়ায় তাঁর মাথা ঠিক ছিল না। তাই সে নবজাতককে হত্যা করেছে বলে চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, গতকাল সুদেবকে আদালতে ও নবজাতককে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন