রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় চার সন্তানের বিরুদ্ধে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার তিনি পিটুনির শিকার হন। পরে গতকাল বুধবার ভোরে তিনি মারা যান। নিহত ব্যক্তির নাম শরিফুল ইসলাম (৫৭)। তিনি পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ছিলেন।
এ ঘটনায় গোদাগাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ জানান, এ ঘটনায় শরিফুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী জোসনা বেগম বাদী হয়ে গতকাল দুপুরে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় শরিফুলের চার সন্তানকে আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ শরিফুলের বড় ছেলে আবু সাঈদকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে। তবে ঘটনার পর থেকে অন্য তিন সন্তান শরিফা খাতুন (৩০), শিরিনা খাতুন (২৫) ও সজল আলী (২২) পলাতক আছেন।
থানা-পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম দুই বছর আগে জোসনা বেগম নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর তিনি প্রথম স্ত্রী খাদিজা বেগম ও তাঁর চার ছেলেমেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। তার পর থেকে খাদিজা বেগম পাশের গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছেলেমেয়েদের নিয়ে থাকতেন। গত সোমবার ওই ছেলেমেয়েরা বাবার বাড়ির পাশে একটি জমিতে ঘর তুলতে গেলে শরিফুল বাধা দেন। একপর্যায়ে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে তাঁর ধাক্কাধাক্কি ও মারপিট হয়। এ সময় লাঠির আঘাতে শরিফুল ইসলাম আহত হন। পরে সন্তানেরাই তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে রাতেই তাঁকে বাড়িতে আনা হয়।
গতকাল বুধবার ভোরে তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে সন্তানেরা তাঁকে আবারও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন