পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য বগুড়া। উত্তরাঞ্চল থেকে রাজধানীসহ দেশের অন্য অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের কেন্দ্রবিন্দু এই জেলার বড় অপরাধগুলোর গোড়া হচ্ছে এই চাঁদাবাজি। বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে বগুড়া জেলা শহর ও এর আশপাশে ২৪ ঘণ্টা চাঁদা তুলছেন ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা। এই তিন ধরনের পরিবহন থেকে বছরে চাঁদাবাজির পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন ও শ্রমিক সমিতির নামে এ চাঁদা তুলছেন। দলীয় নেতারা এসব সমিতিরও নেতা।

কে, কোন অঞ্চল থেকে চাঁদা তুলবেন—নিজেদের মতো ঠিক করে নিয়েছেন তাঁরা। কেউ কারও অঞ্চলে পা মাড়ান না। এক দল এক অঞ্চল বেছে নিয়েছে তো আরেক দল নিয়েছে আরেক অঞ্চল। ফলে পুরো বগুড়ায় চলছে একধরনের সমঝোতাপূর্ণ চাঁদাবাজি। তবে চাঁদা যাঁরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁদের মতে, বগুড়ার চাঁদাবাজিটা হচ্ছে ডাকাতির মতো। চোখের সামনেই সব হচ্ছে। জেলা প্রশাসনও দেখছে, কিছু করছে না। প্রশাসন আছে কারও অভিযোগের অপেক্ষায়। অভিযোগ ছাড়া কিছু করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী।

বগুড়া জেলায় নির্বাচনী আসন সাতটি। এর মধ্যে বর্তমানে চারটি আসনে জাতীয় পার্টি, দুটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে জাসদের সাংসদ রয়েছেন। চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত মূলত আওয়ামী লীগের লোকেরা। চাঁদাবাজিতে বগুড়ার লোকেরা এমন বেপরোয়া কেন এবং সাংসদ হিসেবে কীভাবে দায়িত্ব এড়াবেন—এই নিয়ে সদর আসনের সাংসদ জাতীয় পার্টির নূরুল ইসলাম ওমরের সঙ্গে ১৭ ডিসেম্বর এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি হলাম বিরোধী দলের সাংসদ। দায়িত্ব যেমন এড়াতে পারি না, দায়িত্ব আবার নিতেও পারি না। বাকিটা বোঝার দায়িত্ব আপনার।’

বগুড়ার বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলাটির অপরাধজগতের সঙ্গে এ চাঁদাবাজির যোগসূত্র রয়েছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের অনেকে খুন, মাদক, চোরাচালান, অবৈধ দখলসহ অন্য অপরাধের সঙ্গেও যুক্ত। অন্য যেকোনো জেলার চেয়ে বগুড়ার চাঁদাবাজির পার্থক্য হচ্ছে, উত্তরবঙ্গের ১১ জেলার প্রবেশদ্বার এই জেলা। অর্থাৎ ঢাকা থেকে ১১ জেলায় যেতে এবং ওই জেলাগুলো থেকে ঢাকায় আসতে বগুড়া হয়ে যাতায়াত করতে হয়।

বগুড়া হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ১৩ ডিসেম্বর প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে দিনে ৭ হাজার দূরপাল্লার গাড়ি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে যায়, ঢাকায় ফিরেও আসে একই পরিমাণ গাড়ি। এর মধ্যে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ গাড়ি যাওয়া-আসা করে বগুড়া হয়ে।

হাইওয়ে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, বগুড়া হয়ে দৈনিক চলাচল করে ৯ হাজার গাড়ি। এর মধ্যে দূরপাল্লার বাস চলাচল করে অন্তত ২ হাজার।

ভাগাভাগি করে চাঁদাবাজি

বাসশ্রমিক ও সড়কে চাঁদা আদায়কারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি বাস থেকে চাঁদা তোলা হয় ৪৫০ টাকা। এ হিসাবে ২ হাজার বাস থেকে দিনে ৯ লাখ টাকা তোলা হয়। এই খাতে বছরে চাঁদার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রায় সমপরিমাণ চাঁদা আদায় হয় পণ্যবাহী ট্রাক থেকেও। সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে আদায় হয় বছরে প্রায় ১৫ কোটি টাকা।

বগুড়ার সাতমাথায় দাঁড়িয়ে ১২ ডিসেম্বর রাতে একজন বাসচালক কোন কোন খাতে চাঁদা দিতে হয়, তার একটা বিবরণ প্রথম আলোর কাছে দেন। এর মধ্যে রয়েছে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক ব্যয় ২০০ টাকা, আন্তজেলা কোচ ছাড়পত্র ৭০ টাকা, বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপ ৫০ টাকা, পৌর টোল ৫০ টাকা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন বিভাগীয় কমিটি ২০ টাকা, শ্রমিক কল্যাণ চাঁদা ২০ টাকা, শ্রমিক কল্যাণ হাসপাতাল নির্মাণ ১০ টাকা এবং বগুড়া কোচ মাইক্রো ও শ্রমিক ইউনিয়ন ৩০ টাকা।

বগুড়া হয়ে ট্রাক চলাচল করে দিনে অন্তত ৩ হাজার। প্রতি ট্রাক থেকে চাঁদা নেওয়া হয় ৩০০ টাকা করে। সে হিসাবে ট্রাক থেকেও বছরে তোলা হয় প্রায় সাড়ে ৩২ কোটি টাকা।

ট্রাকমালিক সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার তিনমাথা, চারমাথা, মাটিডালি মোড়, মহাস্থান, মোকামতলা, দ্বিতীয় বাইপাসের সাবগ্রাম ও সুজাবাদ পয়েন্টে দিনে-রাতে এবং শহরের সাতমাথায় শুধু রাতে ট্রাকে চাঁদাবাজি হয়। বাস-ট্রাকের এই চাঁদাবাজির দিনের বেলার অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন শেখ। আর রাতের বেলার অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল লতিফ মণ্ডল।

১৩ ডিসেম্বর বগুড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলের কার্যালয়ে বসে সামছুদ্দিন শেখ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘শ্রমিক কল্যাণে চাঁদা তোলা হয়, এ টাকা আমি খাই না।’ শ্রমিক কল্যাণটা কীভাবে করেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মারা গেলে দাফনের টাকা দিই। শ্রমিকদের মেয়েদের বিয়েতে টাকা দরকার পড়লে দিই, অসুখ হলেও দিই।’

বগুড়া শহরে নিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে সাড়ে ৫ হাজার। আর জেলায় অনিবন্ধিত আছে আরও সাড়ে ১৪ হাজার। মালিক সমিতির সদস্য হতে চাঁদা লাগে এককালীন ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া দৈনিক চাঁদা ২০ থেকে ৫০ টাকা। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং শ্রমিক লীগের নেতারা। তবে তাঁরাও এলাকা ভাগ করে নিয়েছেন।

সর্বনিম্ন ২০ টাকা করে হিসাব করলেও ২০ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে দিনে আদায় হয় ৪ লাখ টাকা, যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা।

শহরের দত্তবাড়ি ও চেলোপাড়া পূর্ব বগুড়া নিয়ন্ত্রণ করেন আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম ওরফে মোহনের আস্থাভাজন শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদত হোসেন এবং যুবলীগের তিন নেতা একরামুল কবির, সংগ্রাম কুমার দাস ও লতিফুল করিম।

মঞ্জুরুল আলম ১৪ ডিসেম্বর প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি এসবের কিছুতে নেই। ধর্মীয় কাজে তিনি মসজিদে আছেন এবং আরও অনেক দিন মসজিদেই থাকবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আছাদুর রহমান সাতমাথা-শেরপুর রোড, যুবলীগ নেতা আলহাজ শেখ এবং শ্রমিক লীগ নেতা সামছুদ্দিন শেখ গোহাইল সড়ক ও স্টেশন রোড এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন। ব্যাটারিচালিত রিকশার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতেন যুবলীগ নেতা আবদুল মতিন সরকারের ছোট ভাই শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার। ছাত্রী ধর্ষণ ও মা-মেয়ে নির্যাতনের মামলায় গত জুলাইয়ে তুফান সরকার জেলে যাওয়ার পর ব্যাটারিচালিত রিকশায় চাঁদাবাজি বন্ধ রয়েছে। ওই সময় ব্যাপক সমালোচনার মুখে দুই ভাইকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এ ধরণের চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজউদ্দিনের কাছে। তিনি ১২ ডিসেম্বর বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কার্যালয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাঁদাবাজি দেশের সব জায়গাতেই আছে। শুধু বগুড়াকে আপনারা লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) করছেন কেন?’

পুলিশের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি ও গ্রেপ্তার-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর বগুড়া প্রেসক্লাবে পুলিশের গ্রেপ্তার-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মুগলিশপুর, ফুলবাড়ি, জয়পুরপাড়া ও মাটিডালি এলাকার ৫০ জনের মতো নারী-পুরুষ।

সচেতন নাগরিক কমিটি, বগুড়ার সভাপতি এবং বগুড়া জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি মাসুদুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বগুড়ায় চাঁদাবাজি করে মূলত প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় সরকারি দলের লোকেরা। সাধারণ মানুষ যতই প্রতিবাদ করুন না কেন, বা যত ভোগান্তিতেই পড়ুন না কেন, ওপর মহলের হস্তক্ষেপ ছাড়া এ চাঁদাবাজি কোনো দিন বন্ধ হবে না।’

 এ বিষয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয় গত বুধবার। তিনি পুলিশের গ্রেপ্তার-বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করেন। পরিবহনে চাঁদবাজির বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘যতটুকু জানি চাঁদা তোলা হয় সংগঠনের নামে। অন্যায়ভাবে চাঁদা নেওয়া হলে যে কেউ অভিযোগ দিতে পারেন। তখন আমরা ব্যবস্থা নেব।’

অন্য অপরাধের নেপথ্যেও চাঁদাবাজি

চাঁদাবাজির আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরোধ আছে। এর মধ্যে যুবলীগে রয়েছে দুটি পক্ষ। এক পক্ষ নিয়ন্ত্রণ করেন জেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিন সরকার। আরেক পক্ষের নিয়ন্ত্রক জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম।

এ দুটি পক্ষ বগুড়ার সব অপরাধের নেপথ্যে বলে স্থানীয় লোকজন জানান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১২ বছরে বগুড়ায় ৩৬টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে গত ৭ বছরেই ঘটেছে ২০টি। বেশির ভাগ ঘটনাই চাঁদাবাজিকেন্দ্রিক। বগুড়ায় চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণেই চলে মাদক-বাণিজ্য। শহরের চক সূত্রাপুর এলাকায় বগুড়া শহরের সবচেয়ে বেশি মাদকের কারবার হয়।

বগুড়া সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া পুলিশ লাইনসের পাশে একটি জায়গা দখলের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের ২৬ মে জেলা যুবলীগ নেতা মজনু মিয়া ও তাঁর ভাতিজা যুবলীগের কর্মী নাহিদ হাসান খুন হন। ২০১২ সালের ১৯ ডিসেম্বর কুপিয়ে হত্যা করা হয় যুবলীগের কর্মী শামিম হোসেন ওরফে বুশকে।

শহরের মাটিডালিতে ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল রাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুন হন রাজাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম। ১২ ফেব্রুয়ারি নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইউছুফ আলীকে পিটিয়ে হত্যা করেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান।

 ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও চোলাই মদের আখড়া শহরের বাদুরতলা ও হাড্ডিপট্টি এখন ‘মাদকপল্লি’। হাড্ডিপট্টি মাদকপল্লিতে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর সরেজমিনে গিয়ে মোটরসাইকেল ও গাড়িতে করে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী লোকদের আসা-যাওয়া দেখা গেছে। স্থানীয় লোকজন জানান, স্পটগুলো চলে ‘মাসোহারা’র বিনিময়ে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, উচ্চবিত্তের সন্তান, রাজনৈতিক দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের ক্যাডাররা নিয়মিত গ্রাহক। র‍্যাব-পুলিশের অভিযানে খুচরা বিক্রেতা ও মাদকসেবীরা ধরা পড়লেও মূল ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকেন।

র‍্যাব ২০১২ সালের ২৪ আগস্ট মতিন সরকারকে মাদকসহ একটি মাদকের আখড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। সে সময় মঞ্জুরুল আলমের নেতৃত্বে মতিন সরকারের মুক্তির দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন হয়। তবে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের কারণে মতিনের অবস্থান এখন মঞ্জুরুল আলমের বিপক্ষে। এর কারণও চাঁদাবাজি।

জানতে চাইলে বগুড়া জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, বগুড়ায় চাঁদাবাজি হচ্ছে এটা ঠিক। এটাও ঠিক যে অবৈধ আয় নানা অপরাধকে উসকে দেয়। তবে শ্রমিক কল্যাণের জন্য চাঁদা তোলা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু করার থাকে না।

তবে বগুড়ার সাধারণ মানুষের মত হচ্ছে, এই জেলায় প্রশাসন আছে নামমাত্র। জেলাটি চলে মূলত সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ইশারায়। আবার চাঁদাবাজিসহ বগুড়ায় প্রায় সব অন্যায়-অপরাধের সঙ্গে প্রশাসনের একশ্রেণির কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। অপরাধীদের সঙ্গে আরও আছে প্রশাসনের লোকদের খোলামেলা ওঠাবসা। তাই কমছে না চাঁদাবাজি।

বগুড়ায় বছরে চাঁদাবাজি ৮০ কোটি টাকা

বাস থেকে আদায় সাড়ে ৩২ কোটি

ট্রাক থেকে সাড়ে ৩২ কোটি

অটোরিকশা থেকে সাড়ে ১৫ কোটি

বগুড়া হয়ে দৈনিক চলাচল করে

দূরপাল্লার বাস      ২,০০০টি

ট্রাক               ৩,০০০টি

অটোরিকশা     ২০,০০০টি

এসব পরিবহন থেকে বিভিন্ন হারে চাঁদা আদায় করেন ক্ষমতাসীন দলের লোকজন

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0