default-image

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বড় ভাই আসাদ মিয়ার (৫৫) সঙ্গে বিরোধ না কমে দিন দিন বেড়ে চলেছিল। এরই জের ধরে ছোট ভাই দ্বীন ইসলাম (৪০) বড় ভাইসহ পরিবারের তিনজনকে হত্যা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছোট ভাই এমন তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় আসাদ মিয়া (৫৫), তাঁর স্ত্রী পারভিন আক্তার (৪৫) ও তাঁদের ছেলে মো. লিয়নের (১২) লাশ উদ্ধার করা হয় বৃহস্পতিবার। এ ঘটনায় দ্বীন ইসলামকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর শনিবার সকালে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসাদ মিয়ার বড় ছেলে তোফাজ্জল মিয়া বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় কাউকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়নি। তবে ঘটনার বর্ণনায় পরিবারের নয় সদস্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন বাদীর চাচা দ্বীন ইসলাম, দাদি কেওয়া খাতুন, ফুফু নাজমা বেগম ও তাসলিমা বেগম, ফুফা ফজলু মিয়া, ফুপাতো ভাই আল আমিন, আজিজুল ইসলাম, মিজান মিয়া ও রায়হান মিয়া।  

এর মধ্যে লাশ উদ্ধারের দিন দ্বীন ইসলাম, কেওয়া খাতুন, নাজমা ও আল আমিনকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মামলা হওয়ার পর তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হবে।  

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, দ্বীন ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন যে তিনি একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। বুধবার রাত দেড়টার দিকে তিনি শাবল হাতে ভাইয়ের ঘরে গিয়ে তিনজনকে হত্যা করেন। পরে ঘরের পেছনে বাঁশঝাড়ের কাছে তিনজনের লাশ মাটিচাপা দেন।

নিহত আসাদ দীর্ঘদিন ঢাকায় ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি গ্রামে ফিরে যান। এলাকায় প্লাস্টিক পণ্যের দোকান দেন। তাঁর তিন ছেলে। ঘটনার দিন বড় ছেলে তোফাজ্জল ঢাকায় ছিলেন। আর দ্বিতীয় ছেলে মোফাজ্জল ছিলেন নানার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার সকালে নানা বাড়ি থেকে ফিরে মোফাজ্জল ঘরে কাউকে দেখতে পাননি। তবে ঘরে রক্তের দাগ চোখে পড়ে। তখন বিষয়টি তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান। ঘরের পেছনে গিয়ে নতুন মাটি দেখে সন্দেহ হওয়ায় খুঁড়তে শুরু করেন। এ সময় ছোট ভাইয়ের একটি হাত বের হয়ে আসে। পুলিশকে জানানো হলে রাত ১০টার দিকে ওই স্থান থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের সময় দ্বীন ইসলাম বাড়িতে ছিলেন না। পরে উপজেলার মুমুরদিয়া বাজার থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

দ্বীন ইসলাম স্থানীয়ভাবে মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলাও আছে।

মামলাটি তদন্ত করছেন কটিয়াদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দ্বীন ইসলামসহ পরিবারের চার সদস্যকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার কারণ হিসেবে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কথা বলেছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0