default-image

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা দখল করে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুণধর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সাদেক গুণধর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের সামনের জায়গা দখল করে সেখানে তিনটি দোকান করেছেন।
এ ব্যাপারে গুণধর গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা ২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগেও অবশ্য উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়।
সরেজমিনে গত শনিবার দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে দোকানপাট নির্মাণ করায় রাস্তা থেকে আড়ালে পড়ে গেছে কেন্দ্রটি। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে এভাবে দোকানপাট করায় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটিতে আসা-যাওয়ায় সমস্যা হয়। দোকানপাটের কারণে হইচইয়ে এখানে স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০০৯ সালে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই নেতা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা দখল করেন। পরে তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাঁটাতারের বেড়া ও সীমানা পিলার ভেঙে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ওখানে তাঁর তিনটি দোকান আছে। একটি মুদি ও অন্য দুটি থেকে তিনি সার, কীটনাশক, ডিজেল ও মুরগি বিক্রি করেন। তিনি ও তাঁর ছেলে আরিফ দোকানগুলো পরিচালনা করছেন।

অভিযোগকারী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সরকারি দলের নেতা হয়ে আবু সাদেক ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা দখল করে দোকান বানিয়েছেন। তিনি এখানে মুরগি, কীটনাশক ও সারের দোকান বসিয়েছেন। এতে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা লোকজনের সমস্যা হচ্ছে। তাই প্রতিকার চেয়ে আমি লিখিত আবেদন করেছি।’

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক শাহীন খান বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা দখল করে দোকানপাট নির্মাণের ফলে সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে কয়েকবার দোকান সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তিনি শুনছেন না। উল্টো আমাকে এখান থেকে বদলি করে দেওয়ার হুমকি দেন।’ তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

আবু সাদেকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে গোপনে কাজ করছে। এদের আমার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস নেই। যে জায়গায় দোকান তুলেছেন, তা সরকারি বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, ওই জায়গা খালি ছিল। তাই দোকান তুলে ব্যবসা-বাণিজ্য করছি।’ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা সম্পর্কে বলেন, এটি আসলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা। সওজের অনুমতি নিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে বলেন, ‘অনুমতি নিইনি। তবে সওজ চাইলে দোকান সরিয়ে নেব।’

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সেলিম মিয়া বলেন, আবু সাদেক জোর করে সরকারি জায়গা দখলে নিয়েছেন। এটা বেআইনি। ইউএনও মোহাম্মদ গোলাম কবির বলেন, ‘উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন। আমি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে বলেছি। অচিরেই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন