default-image

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও তেজতুরী বাজারে গতকাল বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আল্লার দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে তাঁরা সরলমনা মানুষকে বিপথগামী ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যই কাজ করছিলেন বলে পুলিশ দাবি করে। তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে চাইবে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির সহ–অধিনায়ক (সেকেন্ড ইন কমান্ড) শেখ কামাল হোসেন (৩৫), সংগঠনটির নির্বাহী, মামলা ও কারা দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সোহেল রানা (৪০), গাজীপুর বিভাগীয় নায়েক রবি আহম্মেদ ওরফে পাপ্পু (২৮), দাওয়াহ দপ্তরের প্রধান মো. খালেকুজ্জামান (৩৭), নির্বাহী, মামলা ও কারা দপ্তরের সহযোগী মনিরুজ্জমান ওরফে মিলন (৪২)। তাঁদের কাছ থেকে ১২টি মুঠোফোন, ভিসা কার্ড ও কারাবন্দীদের টাকা দেওয়ার স্লিপ ও নগদ ৩৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এটিইউ সূত্র জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় এটিইউর একটি দল ফার্মগেটসংলগ্ন তেজতুরী বাজারের প্যাসিফিক হোম টাওয়ারের নিচতলায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি নেতা শেখ কামাল ও সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন রাত আটটার পর মোহাম্মদপুরের কাটাসুরের শেরেবাংলা রোডে অভিযান চালিয়ে আল্লার দল নামের জঙ্গি দলের নেতা রবি, খালেকুজ্জামান ও মনিরুজ্জমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এটি ইউয়ের পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম ও সচেতনতা) মোহাম্মদ আসলাম খান আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, আল্লার দলের ব্যানারে এসব চক্রান্তুমূলক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার তাঁদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড চেয়ে জন্য আদালতে পাঠানো হবে।

এটিইউয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, শেখ কামাল আল্লার দলের সহ–অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি ২০০৪ সালে জঙ্গি সংগঠনটির প্রধান মতিন মেহেদির কাছে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি ২০০৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত খুলনা ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। জঙ্গি নেতা খালেকুজ্জামান ২০০০ সালে এই জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেন। তিনি ২০০০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পাবনা জেলায় এবং ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা জেলার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের জানুয়ারি থেকে তিনি দাওয়াহ দপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গ্রেপ্তার মনিরুজ্জামান সংগঠনটির প্রধান মতিন মেহেদির ভাগনে।

১৯৯৯ সাল থেকে তিনি জঙ্গি সংগঠনটির একান্ত সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। জঙ্গি সোহেল রানা ২০১৮ সালে আল্লার দলে যোগ দেন। তিনি তাঁর সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা দেখাশোনা, কারাবন্দী ও তাঁদের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতা করে আসছিলেন। রবি আহাম্মেদ ২০১৮ সালে আল্লার দলে যোগ দেন। তিনি ২০১৯ সাল থেকে গাজীপুর জেলায় বিভাগীয় নায়েক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন