লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের আফজাল উদ্দিন পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া নিবন্ধন জমা দিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গত সোমবার ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ওই শিক্ষকের নাম নির্মল চন্দ্র রায়। তিনি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী কম্পিউটার শিক্ষক পদে ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর যোগদান করেন। ২০১০ সালের ১ মে তিনি এমপিওভুক্ত হন।
জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কিসামত চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সহিদুল ইসলাম ২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর নির্মল চন্দ্র রায় ভুয়া নিবন্ধন সনদে নিয়োগপ্রাপ্ত ও এমপিও-ভুক্ত হয়েছেন বলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনই জেলা শিক্ষা কার্যালয় নির্মল চন্দ্র রায়ের নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠায়। গত ১৩ জানুয়ারি ওই কার্যালয় জেলা শিক্ষা কার্যালয়কে চিঠি দিয়ে জানায় নির্মল চন্দ্র রায়ের নিবন্ধন সনদটি সঠিক নয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চিঠি দিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিপিকা চৌধুরী বলেন, ‘জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া নিবন্ধনে
চাকরি গ্রহণ ও এমপিও-ভুক্তির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমাকে জরুরি চিঠি দেওয়ার কথা শুনেছি। চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নির্মল চন্দ্র রায় দাবি করেন, তাঁর নিবন্ধন সনদটি ভুয়া নয়। তিনি বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে আমার নিবন্ধন সনদটি পুনরায় যাচাইয়ের জন্য আবেদন করব।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে নির্মল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চিঠি দিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন