সহপাঠী মুখ না খোলায় খুনের কারণ অজানা

বিজ্ঞাপন
default-image

চট্টগ্রামে ভারতীয় শিক্ষার্থী মো. আতেফ শেখকে (২৪) কী কারণে খুন করা হয়েছে আড়াই বছরের তদন্তেও বেরিয়ে আসেনি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দেওয়া প্রতিবেদন গ্রহণ না করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। সিআইডিও পিবিআইয়ের পথে হেঁটেছে।

সিআইডির দেওয়া অভিযোগপত্রটি গ্রহণের শুনানির জন্য আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে। সিআইডি চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রওশন আরা রব গত মাসে আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেন। এতে আতেফ শেখের সহপাঠী উইনসন সিংহকে আসামি করা হয়। এর আগে গত বছরের ২২ জুলাই উইনসন সিংকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা।

বেসরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি) এমবিবিএস শিক্ষার্থী নিহত আতেফ ও আসামি উইনসন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রওশন আরা রব প্রথম আলোকে বলেন, আসামি উইনসকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি ঘটনার বিষয়ে মুখ খোলেননি। এ ছাড়া সাক্ষ্য প্রমাণে আর কেউ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। এ জন্য একজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামি খুনের কারণ সম্পর্কে মুখ না খোলায় কারণ জানা যায়নি।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছেন দাবি করে আসছেন উইনসন। প্রথম দফায় তদন্তে পিবিআই আদালতের নির্দেশে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাঁর শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা করান। সেখানে বলা হয়, উইনসন স্মৃতি শক্তি হারিয়ে যায়নি। তিনি ইচ্ছে করেই ঘটনা চেপে যাচ্ছেন।

আসামি বিদেশি শিক্ষার্থী হওয়ায় তথ্য আদায়ের জন্য পুলিশকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন উইনসন।

পিবিআইয়ের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার দিন ফ্ল্যাটে মদের পার্টির আয়োজন করেন আতেফ ও তাঁর বন্ধুরা। বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন মাইনসাম উইনসন সিং, গানঞ্জমাই নীরাজ, তোঙ্গবরম জয়েস্তানা দেবী, প্রভাকর লাইসরাম, মালেমনগনবা মায়েংবাম, অথোকপাম রোনাল্ড, প্রমোশ চাকমা টুকু এবং সজল চাকমা মুন। এরা সবাই ইউএসটিসির বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র এবং ভারতীয়। ঘটনার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে উইনসন শিংয়ের কক্ষে খুন হয়েছেন আতেফ।

পিবিআইয়ের দেওয়া অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে গত বছরের জুলাই মাসে আদালত বেশ কিছু ত্রুটি উল্লেখ করে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। এগুলো হলো হত্যাকাণ্ডের কারণ বের করা, ঘটনাস্থলে আতেফ শেখের বন্ধু যাঁরা ছিলেন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা।

পরে সিআইডি তদন্ত শুরু করলেও উইনসন মুখ না খোলায় খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা যায়নি।

২০১৭ সালের ১৪ জুলাই রাতে নগরের আকবর শাহ থানার আব্দুল হামিদ রোডে লেকভিউ সোসাইটির হাজী ইউসুফ ম্যানশনের একটি ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ গলাকাটা অবস্থায় আতেফ শেখ এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করে গুরুতর আহত উইনসনকে উদ্ধার করে। চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর আতেফকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সহপাঠী নিরাজকে এ সময় পুলিশ আটক করে। চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পর উইনসনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পিবিআই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন