default-image

গুলশান ২ নম্বরে শ্বশুরবাড়িতে গত শুক্রবার রাতে স্বামীর মারধরে গৃহবধূ হাসনা হেনার মৃত্যু হয়। কিন্তু হাসনা হেনার শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর ও জা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেননি। তাঁদের পরিকল্পনায় পরদিন সকালে স্বামী সাকিব আলম হাসনা হেনার লাশ তাঁদের ব্যক্তিগত গাড়িতে হাতিরঝিলে নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজান। পুলিশের তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে গুলশান বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

হাসনা হেনা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তাঁর স্বামী সাকিব আলম (৩৮), শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম (৬২), শাশুড়ি সাঈদা আলম (৫৮) এখন কারাগারে।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার সাকিব ও তাঁর মা-বাবা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মুখ খোলেননি। এজাহারভুক্ত আসামি হাসনা হেনার দেবর ফাহিম আলম ও জা টুকটুকি আক্তার করোনায় আক্রান্ত থাকায় ওই বাড়িতে তাঁদের পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এতে হাসনা হেনার স্বামীসহ এজাহারভুক্ত পাঁচজনেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

হাসনা হেনা হত্যা মামলা তদন্ত তদারকের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ওই বাড়ির দুই গৃহকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ২ এপ্রিল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সাকিব ও হাসনা হেনার মধ্যে তর্ক হয়। সাকিব তাঁর ৯ মাস বয়সী শিশু ছেলের সামনে হাসনা হেনাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন। আর্তনাদ ও চিৎকার শুনে তারাসহ (দুই গৃহকর্মী) সাকিবের মা-বাবা, ভাই ও জা গিয়ে দেখেন সাকিব একের পর এক হাসনা হেনাকে আঘাত করছেন। এ সময় ফাহিম বড় ভাই সাকিবকে সরিয়ে দেন। তখন হাসনা হেনা প্রায় অচেতন। কিন্তু কেউই তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠাননি কিংবা হাসনা হেনাদের বাড়িতে খবর পাঠাননি। এ সময় তাঁরা হাসনা হেনার মুখে জুস ও পানি ঢাললেও তা গড়িয়ে পড়ছিল।

একপর্যায়ে হাসনাকে রেখে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর ও জা হাসনার ৯ মাসের শিশুকে তাঁদের কক্ষে নিয়ে যায়। রাতে হাসনার কক্ষেই তাঁর স্বামী সাকিব ছিলেন। এরপর সাকিব ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর সহায়তায় বিছানার চাদর ও মেঝের রক্ত ধুয়ে ফেলে আলামত নষ্ট করে ফেলে। পরদিন সকালে চিকিৎসার নাম করে সাদা চাদরে হাসনার লাশ মুড়িয়ে গাড়িতে তুলে সাকিব হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন এই দৃশ্য ওই বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও দেখা যায়।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সাকিব তাঁর স্ত্রী হাসনা হেনার লাশ বহনকারী গাড়িটি হাতিরঝিলের আমবাগান এলাকায় সড়ক বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা লাগান। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানার পুলিশ ওই গাড়ি থেকে সাকিব ও হাসনা হেনাকে বের করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসনা হেনার গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন ও দুই পায়ে বাঁধার চিহ্ন দেখে বলে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং কয়েক ঘণ্টা আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন