default-image

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় দেড় বছর আগে খেতের ফসল নষ্ট করায় এক গরুর পা কেটে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সালিসে সাক্ষ্য দেয় রবিউল ইসলাম (১২)। এ ঘটনার পর থেকে তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল প্রতিপক্ষরা। ১৩ অক্টোবর রবিউল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে রবিউল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গত শুক্রবার বিকেলে বিশ্বনাথের রামপাশা বৈরাগীবাজারে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন হয়েছে। এ সময় তাঁরা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম (সময়সীমা বেঁধে) দেন।

পরিবারের ধারণা, সাক্ষ্য দেওয়ার জের ধরে রবিউলকে খুন করা হয়েছে। সে বিশ্বনাথের লতিফিয়া ইরশাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

রবিউলের পরিবারের সদস্যরা বলেন, করপাড়া গ্রামে প্রায় দেড় বছর আগে সাদিকুর রহমানের খেতের ফসল নষ্ট করার অভিযোগে স্থানীয় এক ব্যক্তির গরুর পা কেটে দেওয়া হয়। সে সময় রবিউল ঘটনাটি দেখে ফেলে। পরবর্তী সময়ে গরুর মালিক এ নিয়ে এলাকায় সালিস বসালে রবিউল তাতে সাক্ষ্য দেয়। এ ঘটনার পর থেকে রবিউলের পরিবারের সঙ্গে সাদিকুর এবং তাঁর জমির বর্গাচাষি আবদুল কাদিরের বিরোধ চলছিল।

১২ অক্টোবর সকাল থেকে রবিউল নিখোঁজ ছিল। সকালে ধানখেত দেখতে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি রবিউল। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে রবিউলের মামা শওকত আলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর পরদিন সকাল আটটার দিকে বিশ্বনাথের রামপাশা-বৈরাগীবাজার সড়কের পাশে একটি ডোবায় রবিউলের লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

বিজ্ঞাপন

মামলা ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সালিসে রবিউলের সাক্ষ্য দেওয়ার ঘটনার জের ধরে খুনের ঘটনা ঘটেছে এমন অভিযোগ এনে রবিউলের বাবা গত মঙ্গলবার রাতে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় করপাড়া গ্রামের সাদিকুর রহমান (৪৫), আবদুল কাদির (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগমের (৪০) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা তিন–চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্ত মাজেদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার পর দুই আসামি পলাতক রয়েছেন।

এদিকে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে বিশ্বনাথের রামপাশা–বৈরাগীবাজারে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন হয়। তাঁরা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের সময়সীমা বেঁধে দেন। তা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

বক্তারা বলেন, গরুর পা কাটার সাক্ষ্য দেওয়ায় রবিউলকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীর সভাপতিত্ব করেন।

বক্তব্য দেন রবিউলের বাবা আকবর আলী, সাংবাদিক ও কবি সাইদুর রহমান, ছাতকের ছইলা-আফজলাবাদ ইউপির সদস্য আবদুল ওয়াহিদ, সমাজসেবক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রশিদ ইউসুফ প্রমুখ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানার উপপরিদর্শক দেবাশীষ শর্মা বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে শিশুটিকে খুন করা হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য পড়ুন 0